গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ১১২টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ

গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডল : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার ৬টা পর্যস্ত তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৭৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া এসময় করতোয়া এবং তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
সোমবার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের ৩৪ হাজার ৯৫৬টি পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এদিকে শহর রক্ষা বাঁধের খোলাহাটি, চকমামরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা ফেলে হলদিয়া ও কামারজানিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানির স্রোতে সুন্দরগঞ্জ-পঞ্চনন্দ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় কাঁচা পাকা সড়কের উপর দিয়ে পানি ওঠায় যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এমনকি পানিবন্দি মানুষজন সহায়সম্পদ নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে শুরু করেছে। এদিকে বন্যা কবলিত হওয়ায় ১০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বন্যার পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক জমির পাটের জাগ ও কয়েক শ’ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আমন বীজতলা, আমন ক্ষেতসহ নানা ধরণের সবজির ক্ষেত।
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালন জানান, বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য এ পর্যন্ত ৫শ’ মে. টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত মানুষের নামের তালিকা তৈরীর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি জরুরী ভিত্তিতে তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।