গাইবান্ধায় টাকা আত্মসাত করার মামলায় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কারাগারে

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর বিনয় ভূষণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করার মামলায় মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
এদিকে এই ঘটনার পরে তাদের লোকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামান খন্দকার তুহিন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কান্তনগর বিনয় ভূষণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য গত বছরের ২৮ আগষ্ট বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে আগ্রহী ব্যক্তিগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কান্তনগর শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে টাকা জমা করেন। যার পরিমাণ চার লাখ টাকা।
পরে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক একরামুল হক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আলম মন্ডল যৌথ স্বাক্ষরে চার লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। কিন্তু এই টাকা দিয়ে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। এমনকি ওই চার লাখ টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয়ের ক্যাশ বইতেও জমা করা হয়নি এমনকি কোন খাতে সে টাকা ব্যয় করা হয়েছে তাও লেখা নাই। পরে গাইবান্ধা আদালতে হাজির হয়ে ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামান খন্দকার তুহিন মামলা দায়ের করেন। যার সিআর নম্বর ১০৩/১৮।
এই মামলায় মঙ্গলবার একরামুল হক ও রওশন আলম মন্ডল আদালতে জামিন নিতে এলে ওই চার লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রতীয়মান হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এদিকে এই ঘটনার পরে একরামুল হক ও রওশন আলম মন্ডলের লোকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী আসাদুজ্জামান খন্দকার তুহিন।
বাদীপক্ষের আইনজীবি হাফিজুর রহমান ফারুক বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা উত্তোলন করেছেন একরামুল হক ও রওশন আলম মন্ডল। উত্তোলন করে টাকা তাদের হাতে রাখা ও রেজুলেশন আইনসঙ্গত হয়নি। তাই এই টাকা আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয় বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এজন্য আদালতের বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে একরামুল হক ও রওশন আলম মন্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Inline
Inline