গাইবান্ধায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বাড়ছে-রোগবালাই

আঃ খালেক মন্ডল, গাইবান্ধা থেকে : বন্যায় চারণভূমি তলিয়ে খড়-ঘাসসহ গোখাদ্য বিনষ্ট হওয়ায় গাইবান্ধার চার উপজেলায় সর্বত্র গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। না খেতে পেয়ে গবাদি পশু নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চরাঞ্চলগুলোতে এ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ঘাস, খড় খাবারের অনুপযোগী হওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মালিকরা।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে ছিল প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন। এসব এলাকায় পানি উঠায় গরু-বাছুর ও পরিবারের লোকজন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করলেও গরুর খাবার জোটাতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। বানভাসীদের ভাগ্যে কোনোভাবে খাদ্য জুটলেও গরুর খাদ্য না মেলায় এখন গরু-ছাগল বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভূগিরা জানান।
উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কালাসোনা চরের মমতাজ মিয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা গ্রামের চান্দু শেখ জানান, হাতে অর্থ না থাকায় গোখাদ্য ক্রয় করতে পারছি না। বাঁধের উপরে গরু-ছাগল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। গরুর খাদ্য সংকট নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি। তাই তিনি সরকারি ভাবে গোখাদ্য বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আব্দুল লতীফ জানায়, চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। গবাদি পশুর চিকিৎসায় মাঠে সাতটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। গবাদিপশু’র জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের এক লাখ ১৯ হাজার গবাদি পশু বন্যার কবলে পড়ে।