গরুর ব্যাপারিদের মুখ মলিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। বৃষ্টি-কাদা উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের পশু কিনছেন কুরবানি দিতে আগ্রহীরা। অনেকে স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন হাটে। চাহিদার চেয়ে বেশি পশু আসায় তুলনামূলক কম দামেই বিক্রি করে দিচ্ছেন ব্যাপারিরা। গরুর দাম কম হওয়ায় ব্যাপারিদের চিন্তিত দেখা গেছে।

ব্যাপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর দুই এক দিন আগে থেকে বেচাকেনা শুরু হলেও এ বছর তা হয়নি। যারা আগে গরু নিয়ে এসেছেন তাদেরকে বরং গরুর পেছনে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। আজ দুপুর থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। সময় যত যাচ্ছে বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। তবে গরুর দাম অনেক কম। বৃষ্টি হওয়ার কারণে দাম আরো পড়ে গেছে। কাদার ভেতর দাঁড়িয়ে না থেকে অনেকে গরু কম দামেই ছেড়ে দিচ্ছে।

জামালপুর থেকে ১৪টি গরু নিয়ে শনিরআখড়া গরুর হাটে এসেছেন সত্তার মিয়া। গত মঙ্গলবার থেকে গরু নিয়ে হাটে বসে আছেন। একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি।
তিনি বলেন, কেনা দামও বলছে না ক্রেতারা। গত দুই দিন তো দামই করেনি। এখন যাও করছে তাতে প্রতিটি গরুতে কয়েক হাজার টাকা করে লোকসান যাবে। কেনা দাম হলেও ছেড়ে দেব। তবে, এ অবস্থা সন্ধ্যার পর পাল্টে গেছে। হাট ফেরত মানুষজন জানাচ্ছিলেন, দাম কম শুনে হাটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যায় ক্রেতাদের ভিড়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়িয়ে দেন ব্যাপারিরা। অন্তত ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে গরু। দাম পেয়ে সকালে মুখ মলিন ব্যাপারিদের মুখে হাসি ফুটে সন্ধ্যায়।হাটে হাসিল আদায় করছেন মোহাম্মদ জীবন। তিনি জানান, গতকাল অল্প কিছু গরু বিক্রি হয়েছিল। তবে আজ দুপুর থেকে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। রাতে আরো বেশি বিক্রি হবে।তিনি বলেন, এবারের ঈদের আগে সরকারি ছুটি না হওয়ায় মানুষ গরু কিনতে আসেনি। সাধারণত ঢাকা শহরের লোকজন ছুটির দিনে গরু কিনতে পছন্দ করে। আগামীকাল শুক্রবারই সবচেয়ে বেশি বেচাবিক্রি হবে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে অনেকেই আগে গরু কিনতে চাচ্ছেন না। কারণ বৃষ্টির মধ্যে গরু রাখা একটা সমস্যা।
তিনি জানান, হাসিলে প্রতি হাজারে ৬০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। হাসিল রেখে রশিদ দেয়া হচ্ছে। রশিদ দেখানোর পর হাট থেকে গরু বাসায় নিতে পারছেন।জানা গেছে, এবার রাজধানীর ২৩ স্থানে বসছে কোরবানির পশুর হাট। এর মধ্যে রয়েছে ২২টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাট। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি হাট বসেছে। একমাত্র স্থায়ী হাট গাবতলীতে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুর-খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, ব্রাদার্স ইউনিয়নসংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠ এবং সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গা।ঢাকা উত্তর সিটি করপোশেন এবার ৯টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে- কুড়িল ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন, বসিলা এলাকা, মিরপুর ডিওএইচএস, উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টর, খিলক্ষেত বনরূপা এলাকা, আশিয়ান সিটি, ভাটারার সাঈদনগর, আফতাবনগর ও মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশন।