গত বছর নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের সংখ্যা ৫২৩৫

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ২৩৫ নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মলেকাবানু স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মহিলা পরিষদ বলছে- নারী নির্যাতনের ঘটনা গত বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১ বছরে উদ্বেগজনক হারে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১ হাজার ২৫১টি। এরমধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ২২৪ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৮০ জনকে। গত এক বছরে শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছে ৯৩ জন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৬৪ জন নারী। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৪০ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ৯১ জন নারী ও কন্যা। আর অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। গত বছর অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৩টি। পাচার করা হয়েছে ৯৫ জন নারী ও শিশু, এরমধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে ৬০ জনকে। ৭১৩ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ৫৯ জনকে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৮৯ জন নারী এদের মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ২০৮ জনকে। গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৫ জন, এরমধ্যে হত্যা করা হয়েছে ১২ জনকে এবং নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে ৫ জন। প্রতিবেদন মতে গত বছর উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ২৬৪ জনকে, এরমধ্যে আত্মহত্যা করেছে ৩৪১ জন। অবৈধ ফতোয়ার শিকার হয়েছে ৪৫ জন নারী ও কন্যা শিশু। প্রতিবেদনে দেখা যায়- গত বছর বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ৪২৩ নারী ও কন্যা শিশু আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ১৮ জন। ২৫৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদন মতে বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে মোট ৪৪৪টি। তারমধ্যে ১৯৭টি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিরোধ করা হয়েছে ২৪৭টি। প্রতিবেদনে দেখা যায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩২ জন নারী ও কন্যা শিশু । শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ৩২৪ জন নারী ও কন্যা শিশুকে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন করা হয়।

Inline
Inline