খোদাপ্রেমের পরাকাষ্ঠা

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থে্যর অধিকারী প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ। হজের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে যাবতীয় গোনাহ থেকে মুক্ত করেন। হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে হজ করেছে এবং যে ওই সময়ে কোনো অশ্লীল কথা বলেনি বা কোনো অশ্লীল কাজ করেনি, সে হজ থেকে ফিরে আসে সেদিনের মতো যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।’ প্রতিটি মানুষ জন্ম নেয় নিষ্পাপভাবে। যাপিত জীবনে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে পাপ করে। কিন্তু কেউ যদি সহিহভাবে হজ করে তবে সে তার অতীত গোনাহ মাফ পায়।

হজ করতে গিয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তার হজ কবুল করে নেন। হজ না করেও তিনি হজের পরিপূর্ণ সওয়াব লাভ করেন। কারণ আল্লাহ বান্দার নিবেদিতপ্রাণ মনোভাবকে মূল্যায়ন করেন। বান্দা হজের নিয়তে যখন ঘর থেকে বের হন তখন তিনি একাগ্র চিত্তে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য যাত্রা শুরু করেন। হাদিসে হজযাত্রীদের অভিহিত করা হয়েছে আল্লাহর পথের যাত্রী হিসেবে। আল্লাহ হাজিদের সুউচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। হাজিরা শুধু নিজের জন্য নয়, অন্য মুমিন ভাইয়ের জন্যও যদি আল্লাহর কাছে মাফ চায় আল্লাহ তাদের দোয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাসূল সা. বলেছেন, তুমি যখন কোনো হাজির দেখা পাবে তাকে সালাম দেবে, মুসাফাহা করবে এবং তাকে অনুরোধ করবে তিনি যেন আল্লাহর ঘরে প্রবেশের আগে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চান। কারণ হাজি হলো গোনাহ থেকে পবিত্র ব্যক্তি।

হজের প্রতিটি আহকামে হাজি সাহেবরা তাদের নিটোল, নিষ্কলুষ ও অকৃত্রিম প্রেমের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন। প্রতিটি মুহূর্তে নিজের তপ্ত হৃদয় থেকে উৎসারিত কাতর প্রার্থনা জানান আল্লাহর দরবারে। কাবা ঘরে তওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় দৌড়াদৌড়ি, মিনায় অবস্থান, কংকর নিক্ষেপ, আরাফা-মুযদালিফায় অবস্থানÑএ সব কর্মকা-ে হাজিরা আল্লাহপ্রেমের প্রকৃত রূপটি ফুটিয়ে তোলেন। হজের দিনগুলোতে প্রেমের উচ্ছ্বাসে মুখর হাজি সাহেবদের প্রাণান্তকর আকুতি ও ব্যাকুল মিনতি একটাইÑপ্রেমাস্পদ প্রভুকে কিভাবে আপন করে পাওয়া যায়, তার সন্তুটি কিভাবে অর্জন করা যায়। এজন্য খোদাপ্রেমের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনে হজের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র হজের মাধ্যমেই এই স্থুল দুনিয়ায় প্রেমাস্পদ প্রভুর সবচেয়ে কাছে পৌঁছা সম্ভব।

Inline
Inline