খুলনা-বেনাপোলের ট্রেনের যাত্রীরা চোরাকারবারীদের চাপে অতিষ্ঠ

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা বিশেষ প্রতিনিধি : খুলনা থেকে বেনাপোলগামী কমিউটার ট্রেনে দিন দিন যাত্রী বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ যাত্রীই চলাচল করে টিকিট ছাড়া। যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করার জন্য নেই পর্যাপ্ত টিকিট চেকার। আর যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে টিকিটের বিষয়টিতে নির্বিকার থাকেন টিটি। এছাড়া ট্রেনে চোরা কারবারীরা সক্রিয়। চোরা কারবারীরা বগিতে থাকে সংঘ বদ্ধ হয়ে। তাদের দখলে থাকে অধিকাংশ সিট।
সরেজমিন দেখা যায়, সকালে খুলনা রেল স্টেশনে বেনা পোলগামী যাত্রীদের আনাগোনা শুরু। রেল স্টেশনে প্রবেশ করতেই চোখ যায় টিকিট কাউন্টারের দিকে। সামনে রয়েছে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। তারা সবাই বেনাপোল যেতে টিকিটের অপেক্ষায়। হঠাৎ স্টেশনে মাইকে বেনাপোলগামী ট্রেন ছাড়ার ঘোষণা হয়। সবাই টিকিট ছাড়াই লাইন ছেড়ে দৌড়ে যে যার মত ট্রেনে ওঠায় ব্যস্ত। ট্রেনে উঠে দেখা যায় কিছু সিট খালি রয়েছে। ট্রেন এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে যেতে বৃদ্ধি পেতে থাকে যাত্রী। হঠাৎ বগিতে টিকিট চেকারের আগমন। তিনি যাত্রীদের টিকিট দেখছেন। যাদের টিকিট নেই তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। কিন্তু কোন টিকিট দিচ্ছেন না। কেউ কেউ টিকিট চাইলেও পরে দেবেন বলে চলে যান। আর আসেন না। জানা গেছে, খুলনা থেকে বেনাপোলগামী কমিউটার ট্রেনে সাতটি বগি রয়েছে। এই সাতটি বগিতে টিকিট চেকার রয়েছে মাত্র দুইজন।
অপরদিকে সকাল ৬টার কমিউডার ট্রেনে সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা স্টেশন ছেড়ে দৌলতপুর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছায়। ট্রেনে ওঠার জন্য যাত্রীদের বেশ ভিড়। ট্রেনে ৫-৭ জন মহিলাকে সিট দখল করতে দেখা যায়। তারা সেই সিটগুলোতে কোন যাত্রী বসতে দিচ্ছেন না। এরপর হঠাৎ যাত্রীদের টিকিট চেক করার জন্য টিটির আগমন। তারা টিকিট ছাড়াই টাকা দিয়েছেন। বসতে না পারায় কয়েকজন যাত্রীকে ফিরে যেতে দেখা যায়। এরপর নওয়াপাড়া স্টেশনে পৌঁছানো মাত্র ৫-৬ জন পুরুষকে তাদের সাথে যোগ দিতে দেখা যায়। তারা নিজেদের মধ্যে অন্যরা কোথায় আছে জানতে চায়। সবাই বিভিন্ন বগিতে ভাগ হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন যাত্রীর পরে একজন যাত্রী জোর করে বসতে গেলে তাকে বসতে দেয়নি। এমনকি তাদের লোকেরা বসতে দিতে বললে তিনি কথা বলতে না করেন।
বেনাপোলগামী ট্রেনের যাত্রী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, তিনি সপ্তাহে ৩-৪ বার বেনাপোল যাতায়াত করেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় টিকিট ছাড়াই যান। কিন্তু টিটিরা সবসময় টিকিট চেক করেন না। আর চেক করলে টিকিট না থাকলে কিছু টাকা দিলে হয়। আর কিছু বলেন না। আবার অনেক সময় ইঞ্জিন বগির লোক এসে টাকা নিয়ে যায়। ঝিকরগাছাগামী যাত্রী মোঃ লালচাঁদ হোসেন বলেন, টিকিট না কাটলেও হয়। কেননা টিটিদের টিকিটের চেয়ে কম টাকা দিলে আর টিকিট লাগে না।
ট্রেনের টিটি মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, টাকা কম দিলে আর টিকিট লাগে না। এজন্য কম টাকা দিলে টিকিট দেওয়া হয় না। ট্রেনের অপর টিটি রিন্টু কুমার পাল জানান, টাকা কম দিলে টিকিট দেওয়া হয় না। আর তারা সব বগিতে টিকিট চেকও করতে পারে না। এজন্য কোন কোন বগির টিকিট একেবারেই চেক করা সম্ভব হয় না। ট্রেনে হয়রানি হওয়া যাত্রী দীলিপ কুমার দাশ (৬৪)। তাকে বসার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তিনি নিজেকে অসুস্থ বললেও তাকে বসতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, তার অসুস্থতার পরেও তাকে সিটে বসতে দেওয়া হয়নি। ট্রেনের যাত্রী বিপ্লব বিশ্বাস জানান, যারা বসতে দেয়না ওরা ব্লাকার। ওরা সবাই সংঘবদ্ধ। ওরা দৌলতপুর থেকে ওঠে আবার মাল নিয়ে ওখানে নেমে যায়। আর ওদের টিকিটও লাগে না। টিটিকে টাকা দিলে শেষ।
খুলনা রেল স্টেশনের জুনিয়র ইন্সপেক্টর অব ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার মোঃ মনোয়ার হোসেন জানান, টিটি স্বল্পতার কারণে সবার টিকিট পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। আর টাকা নিয়ে টিকিট না দিলে সেটা অপরাধ। আর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর চোরা কারবারীদের বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখবে।

Inline
Inline