খুলনায় ৭ম শ্রেনীর ছাত্রীর আত্নহত্যার চেষ্টা

আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় সৎ পিতার লালসার শিকার হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী। ছাত্রীর
অভিযোগ মাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন সৎ বাবা শেখ মোঃ মারুফ।শনিবার (৭ অক্টোবর) মেয়েটি তার মাকে খুলে বললে এ ঘটনাটি প্রকাশ পায়। ওই দিনই আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষ খায় মেয়েটি। তাকে প্রথমে বাগেরহাটের ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ৫-৬ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সোমবার (৯ অক্টোবর) ডা. প্রিয়ঙ্কা স্বাক্ষরিত আলট্রাসোনোতে ধরা পড়ে সে ১৯ সপ্তাহের আন্তসত্ত্বা।মেয়ের মা আছিমা বেগম জানান, ১৪ বছর আগে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বিয়ে করেন ফকিরহাট উপজেলার যাত্রাপুরের বেনেগাতি গ্রামের বাসিন্দা ইখলাস উদ্দিন শেখের ছেলে শেখ মোঃ মারুফকে। ওই সময় সৎ বাবার লালসার শিকার মেয়েটি তখন কোলে। তিনি বলেন, ৩ ছেলে মেয়ের মধ্যে ওই মেয়েটি মেঝ। গত শনিবার সকালে মেয়েটি শরীর খারাপ হওয়ায় ভয় পেয়ে বিষয়টি তখন খুলে বলে। বিষয়টি জানার পর দ্বিতীয় স্বামী মারুফকে এ বিষয় জিজ্ঞাসা করলে বলে মেয়ের যাবতীয় খরচ ও চিকিৎসা আমি করবো, তুই কাউকে এ বিষয়ে জানা জানি করিস না। এই বললে স্ত্রী আছিয়া তাকে দা দিয়ে মারতে গেলে সে পালিয়ে যায়। এই ফাঁকে সকালে মেয়ে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে খায়। তাকে প্রথমে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ওয়াস করে খুমেকে রেফার্ড করেন। সোমবার (৯ অক্টোবর) মেয়ের আলট্রাসোনোতে ধরা পড়েছে সে ৫ মাসের আন্তসত্ত্বা।মেয়ের মা জানান, তার মেঝ মেয়ে কোমলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীতে পড়ে। আর বড় মেয়ে রিয়া পড়েন ৮ম শ্রেনীতে। তার দ্বিতীয় স্বামীর ওপর একটু সন্দেহ হওয়ায় বড় মেয়েকে তার মামার কাছে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। তিনি আরও জানান, তার স্বামী মোঃ মারুফ ওই দিনের পর থেকে পলাতক রয়েছে। মেয়ে ঘুমের ঘোরে আতকে উঠে, আর বলতে থাকে আমার মাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেললো। এ বছর রোজার মধ্যে থেকে তার মেয়েকে সর্বনাশ করে আসছে তার স্বামী। লালসার শিকার ওই মেয়েটি জানান, তার সৎ বাবা মারুফ বলে, তুই যদি আমার সাথে এই সব কাজ না করিস তাহলে তোর মাকে আমি বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলবো। এ বিষয়ে কারো কাছে মুখ খুলবি না। এই সব ভয় দেখিয়ে তাকে এ পর্যন্ত ৪ বার ধর্ষণ করেছেন। খুমেকের ৫-৬ ওয়ার্ডের তত্ত্বাবধায়ক বিথিকা মালাকার রাত পৌনে ৮টায় বলেন, মেয়েটি বিষ খেয়েছিলো। তার শরীরে এখনও পয়জন রয়েছে। অবস্থা পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয়।