খুলনায় সংগ্রাম হত্যায় গ্রেফতার ৬, সরঞ্জাম উদ্ধার

মিজান হাওলাদার, জেলা প্রতিনিধি : খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের সারজিল ইসলাম সংগ্রাম(২৯) হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ১নং আসামিসহ গ্রেফতারকৃত ৩ জন হত্যার দায় স্বীকার করে ২ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ২টি চাপাতি ও ২টি ছোরা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ২ টার সময় উপজেলার বাগমারা হিমায়ন বরফ কলের সন্নিকটে আল আমিন মল্লিক এর চায়ের দোকানের সামনে সারজিল ইসলাম সংগ্রাম’র চাচাতো ভাই ইনজামুলের একটি মোবাইল চুরি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে ধারালো অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত ৯ থেকে ১০ জন সংগ্রামকে কুপিয়ে হত্যা করে।  এ ঘটনায় নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন মিলি বাদী হয়ে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ রাহাত সিকদার(২৭),বাগমারা গ্রামের বাবুর বাড়ির ভাড়াটিয়া আলমগীর হাওলাদারের পুত্র সোহেল হাওলাদার ওরফে গেদন সোহেল, একই গ্রামের রশিদা এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া মৃত উইনুছ শেখের পুত্র ইব্রাহিম শেখ, গোয়ালবাথান গ্রামের সেলিম শেখের পুত্র অমিত শেখ, বাগমারা গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের পুত্র সাজু ওরফে সাজু ও মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার গেদনপাড়ের সিরাজসহ অজ্ঞতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে ওই দিন রূপসা থানায় একটি হত্যা (মামলা নং-২১) মামলা দায়ের করেন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সুপার মামলার তদন্ত খুলনা জেলা গোয়েন্দা’র উপর ন্যস্থ করলে গোয়েন্দা শাখার এসআই মুক্ত রায় চৌধুরী (পিপিএম)কে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামি সুমন মোল্যাকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করেন। সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভূক্ত ১নং আসামি রাহাত শিকদারকে গত ৬ অক্টোবর রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে নওয়াব আলী সরদারের ভাড়াটিয়া মৃত তাছেম মোল্লার পুত্র আলমগীর মোল্যা, বাগমারা পাওয়ার হাউজের নজরুল সাহেবের বাড়ীর বাড়াটিয়া মো. মুসা সরদারের পুত্র বায়েজিদ সরদারকে গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আসামি রাহাত শিকদার এর বাড়ী হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ২টি ছোরা ও ২টি চাপাতি উদ্ধার করা হয় বলে সূত্র জানায়।

এদিকে আসামি রাহাত শিকদার ও আলমগীর মোল্যা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান এর আদালতে সোমবার নিহত সারজিল ইসলাম সংগ্রাম হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামি বায়েজিদ সরদারকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছেন। মামলার এজাহারভূক্ত ১নং আসামিসহ মোট ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যার রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।