খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার পর্যন্ত স্থগিত

আদালত প্রতিনিধি : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন রবিবার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ।

বুধবার সকাল নয়টার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গতকাল দুর্নীতির এই মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক পৃথক দুটি আবেদন করে। পরে জামিন স্থগিত না করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে তা শুনানির জন্য পাঠায় চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

নিম্ন আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে আসার পর তা দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত সোমবার খালেদা জিয়ার চার মাসের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। সেই সঙ্গে তার আপিল শুনানির জন্য ওই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে পেপারবুক প্রস্তুত করারও নির্দেশ দেন।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চাইলেও হাইকোর্ট চারটি যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর করে।

এগুলো হল- ১. নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে, এই সাজায় হাই কোর্টে জামিনের রেওয়াজ আছে। সে বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন। ২. বিচারিক আদালতের নথি এসেছে, কিন্তু আপিল শুনানির জন্য এখনও প্রস্তুত হয়নি। ফলে আসামি জামিনের সুবিধা পেতে পারেন। ৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া জামিনে ছিলেন; এর অপব্যবহার করেননি। আদালতে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। ৪. বয়স এবং বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আলাদা আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। কিন্তু চেম্বার আদালত তাতে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়।

এতিমদের সহায়তার জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিগত সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটির রায় ঘোষণা করেন বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া তারেক রহমানসহ মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।