খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল, কাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো অবনতি হয়নি। সোমবার যেমন ছিলেন, অনেকটা সেরকমই আছেন তিনি। তবে, বুধবার বিকালে তাকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন। খালেদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে প্রতিদিন রুটিন চেক-আপ করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে আমরা তাকে প্রতিদিন দেখছি। এছাড়াও সার্বক্ষণিকভাবে দুইজন ডাক্তার নিয়োজিত রয়েছেন।’

মঙ্গলবার বেলা দুইটায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আরও বলেন, ‘আশা করা যায়, আজই খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি শুরু হবে’।আর অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাজমুল করিম জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এই (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেই সম্ভব।

সোমবার রাত নয়টা ২০ মিনিটে ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এম এ জলিল চৌধুরী ও সৈয়দ আতিকুল হককে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন পরিচালক। এ সময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি আগে থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন। তবে কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তার দলের নেতা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে বিএনপি নেত্রীকে ভর্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে সরকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল অথবা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তির পক্ষে ছিল।

বিএনপির নেতারা এবং খালেদা জিয়া একাধিকবার বলেছেন, ইউনাইটেড না হলে তিনি যাবেন না। পরে অবশ্য অ্যাপোলো হলে যাবেন বলে জানায় বিএনপি। যদিও ৪ অক্টোবর বিএনপির রিট আবেদনে বিএনপি নেত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট এবং এই যাত্রায় আর না করেননি খালেদা জিয়া। শনিবার তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকের একটি কক্ষে ভর্তির পর হাইকোর্টের নির্দেশে মেডিকেল বোর্ডও পুনর্গঠন করা হয়।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের চিকিৎসকরা যে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সমস্ত অসুস্থতার কথা মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন, এটা আসলে নৈতিক হয়েছে কি-না- সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাজমুল করিম বলেন, ‘আমরা আসলে এত ভেবে বলিনি। আমরা তার বর্তমান অবস্থা জানাতে চেয়েছি।’

একই প্রশ্নের জবাবে পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘আমরা আসলে কোনো গোপনীয়তা না থাক, সেটাই চেয়েছি।’

বোর্ডের প্রধান এম এ জলিল সোমবার জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া মূলত রিউমেটয়েড আর্থ্ররাইটিস রোগে ভুগছেন। ইদানিং অসুখটি বেড়ে যাওয়ায় তার বাম হাত বেঁকে গেছে। তিনি বাম হাত তুলতে পারেন না, কোনো কিছু ধরতে পারেন না। এছাড়াও আগে থেকেই নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। তার সারভাইভাল স্পন্ডালাইসিস, লাম্বার স্পন্ডালাইসিস ছাড়াও হাইপ্রেসার, ডায়াবেটিস, সোডিয়াম কমে যাওয়া ছাড়াও অ্যাজমার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আগেই তার হাঁটুতে মেটাল রিপ্লেসমেন্ট (প্রতিস্থাপন) করা ছিল। সম্প্রতি তার বাম হাঁটু ফুলে গেছে এবং ব্যথা বেড়েছে।’

খালেদা জিয়ার তো আগে কখনো ডায়াবেটিসের কথা শোনা যায়নি, তাহলে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কথা বললেন, এটা কবে শুরু হয়েছে- জানতে চাইলে ডা. নাজমুল বলেন, ‘তার ডায়াবেটিস থাকাটা নতুন নয়। এটা আগেই ছিল।’

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলে তিনি কতটা সুস্থ হবেন বলে ডাক্তাররা আশা করছেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া যায়, তবে তিনি সুস্থ হবেন বলে আশা করা যায়। তবে যেহেতু সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা ও সব বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন, সেহেতু খালেদার চিকিৎসা এই হাসপাতালেই করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খোরশেদ আলম।