খালেদার স্বাস্থ্য নিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন নবগঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তারা।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না দিলেও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবে।

বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি হয়েছে কি না এবং চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র নেয়ার প্রয়োজন আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এই বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল বোর্ড তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।’

সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘উনার পূর্বে যে সমস্যাগুলো ছিল আর্থাইটিস, জয়েন্টে ব্যথা সে সমস্যাগুলোই পাওয়া গেছে।’

এর আগে শনিবার বিকাল ৩টা ৪৪ মিনিটে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড কারাগারে প্রবেশ করে। তারা ৫৫ মিনিট কারাগারের ভেতরে অবস্থা করে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে কারাগার ত্যাগ করেন। ৩০ মিনিটের বেশি সময় তারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারাগার ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে পরে কারা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে ব্রিফ করেছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী রাজধানীর কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানায়। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড হবে।

পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী বীরু, চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। পরে বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি অন্য কোনো মামলায় আর হাজিরা দেননি। এজন্য জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারে কারাগারের ভেতরে বসে আদালত।

গত ৪ সেপ্টেম্বর কারাগারের ভেতর আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া তার অসুস্থতার কথা জানান। বিচারকের উদ্দেশে খালেদা বলেন, ‘আমার হাতের অবস্থা ভালো না। ডাক্তার বলছে, পা ঝুলিয়ে রাখলে ফুলে যাবে। রিপোর্ট দেখলে বুঝতেন আমার শরীরের অবস্থা কী। সুতরাং যা ইচ্ছা সাজা দিন, আমি আর আসতে পারব না।’