খালেদার মানহানির দুই মামলায় চার্জ শুনানি পিছিয়ে ১৩ নভেম্বর

আদালত প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানহানির দুই মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৩ নভেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বুধবার আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘মামলা দুটিতে বুধবার চার্জগঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে আদালতে না আনায় আমরা সময় চেয়েছিলাম।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদÐপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।’

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলাটি করেন। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমে খালেদা জিয়ার ৫টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি ৫টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই তিনি ওইদিন জন্মদিন পালন করেন।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মামলাটি ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই বছরের ১২ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাকে হুমকি দিয়ে তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। এছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর-রাজাকারদের মন্ত্রী করেন। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটিয়েছেন।

গত ৫ জুলাই সিএমএম আদালত মামলা দুটিতে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করলেও গত ৩১ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েসের আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

Inline
Inline