খালেদার পক্ষে বক্তব্য শেষ, ‘সম্মানজনক খালাস’ দাবি

১১ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বক্তব্য শেষ হলো। পঞ্চম আইনজীবী হিসেবে যুক্তি উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে বিএনপি নেতা মুওদুদ আহমদ আশা করছেন, এই মামলায় তার মক্কেল ‘সম্মানজনক খালাম’ পাবেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানের আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন চার জন আইনজীবী। আজ মঙ্গলবার সবশেষ আইনজীবী হিসেবে যুক্তি দেন মওদুদ।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়। খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয় এতে।

গত ১৯ ডিসেম্বর এই মামলায় ‍যুক্তি উপস্থাপন করে দুদকের আইনজীবী খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেন।

এরপর আদালত খালেদা জিয়াকে তিন কার্যদিবসে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ দেয়। তবে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে না পারায় সময় বাড়ানো হয়। আজ ১১তম দিনে যুক্তি উপস্থাপন করছেন মওদুদ আহমদ। এর আগে যুক্তি উপস্থাপন করেন রেজ্জাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জ‌মিরউদ্দিন সরকার।

মওদুদ বলেন, ‘এই মামলার কোনো প্রাইমারি নথি নাই। কোনো সাক্ষী প্রমাণও নাই। মাননীয় আদালত, আপনি সম্মানজনকভাবে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে খালাস দেবেন।’

বিশেষ জজ আদালতে চলা মামলাটি গোপন বিচারের মতো বলেও দাবি করেন মওদুদ। বলেন, ‘এটা কোনো পাবলিক কোর্ট না, এখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না, আইনজীবীদের আসতে দেয়া হয় না, সাধারণ জনগণকে আসতে দেয়া হয় না।’

‘এই কোর্টটা করা হয়েছিল বিশেষ একটা অকেশনে (পিলখানা হত্যা মামলা)। কিন্তু এখানে খালেদা জিয়ার মামলাটা আনা হয়েছে।’

এই মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিদের পক্ষে আরও দুই কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপন করবেন তাদের আইনজীবীরা। এই দুই দিন আদালতে খালেদা জিয়ার হাজির না হওয়ার পক্ষে দুটি আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু সে আবেদন নাকচ করেন বিচারক।

একই সঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় স্থায়ী জামিনের দুটি আবেদনও ফিরিয়ে দেন বিচারক।