খালেদার দুর্নীতি মামলা: হঠাৎ ব্যাপক নিরাপত্তা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক ‍উপস্থাপনের শেষ দিন পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এলাকা ও আশপাশে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান মামলাটির বিচার করছেন।

আদালতে প্রবেশের পথে প্রথমবারের মতো স্থাপন করা হয়েছে আর্চওয়ে, পাশপাশি পুলিশের হাতে আছে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরও। আদালত চত্বরে আনা হয়েছে প্রিজন ভ্যানও। বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে গোটা এলাকায় টহল দিচ্ছে র‌্যাবের গাড়িও। কাউকে এই এলাকায় জড়ো হতে বাধা দিচ্ছে তারা।

পুলিশের এই অবস্থান কেবল আদালত চত্বর বা বকশিবাজারে নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এমনকি হাইকোর্ট এলাকাতেও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

নিরাপত্তায় হঠাৎ কড়াকড়ির কারণ জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম মুরাদ আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সবার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সবাইকে।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা দুর্নীতি মামলায় আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য শেষ দিন। এর মধ্য দিয়েই মামলাটির শুনানি কার্যক্রম শেষ হচ্ছে। আইনজীবীরা জানান, আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমান রাখা হতে পারে অথবা বিচারক কোনা একটি দিনও নির্ধারণ করতে পারেন।

গত ৫ ডিসেম্বর এই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হলে আদালত যুক্তি উপস্থাপনে ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর সময় বেঁধে দেয়। এর মধ্যে ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছে। আর গতকাল বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আসামিদের নির্দোষ দাবি করে যুক্তি দিয়েছেন। আজ তারা আবার যুক্তি উপস্থাপন করবেন।

দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়াও এই মামলায় তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে খালেদা জিয়া, সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। আর তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

মামলা হওয়ার এক বছর পর তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরও পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরু হয়।

এই মামলায় মোট সাত দিন আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময় ক্ষমতার কোনো অপব্যবহার তিনি করেননি, অন্যায় প্রভাবও কখনও খাটাননি।

বিএনপির অভিযোগ, এই মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে চাইছে সরকার। তবে সরকার কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আর বিচার চলেছে আইনের স্বাভাবিক গতিতে।

এই মামলাটি ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও একটি দুর্নীতি মামলা চলছে বিশেষ জজ আদালতে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে ওই মামলাতেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটির বিচারও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে আসামিদের যুক্তি উপস্থাপন এখনও শুরু হয়নি।