খালেদার দণ্ড: আপিল শুনানি করতেই হচ্ছে আইনজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনিচ্ছা সত্ত্বেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরু করতে হচ্ছে আইনজীবীদের।

৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে রিভিউ আবেদন ৩১ ‍জুলাই পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরুর নির্দেশও এসেছে।

৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে না পারলে সময় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও আদেশ এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আপিলের আবেদন করেন ১৯ ফেব্রুয়ারি। ২২ ফেব্রুয়ারি গৃহীত হয় আপিল। ১২ মার্চ তাকে চার মাসের জামিন দিয়ে দেয়া আদেশে একই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র বা আসামিপক্ষের আবেদনে আপিল শুনানি শুরু হবে বলে জানানো হয়। এই সময়ের মধ্যে পেপারবুক প্রস্তুত রাখারও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট বেঞ্চ।

হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর ১৬ মে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখা হয়। কিন্তু সেদিন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিস্পত্তির নির্দেশও আসে। আর এটিই বিএনপির উদ্বেগের কারণ।

বিচারিক আদালতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড খালেদা জিয়াকে আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পারবে না। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে এর মীমাংসা হলে এবং কমপক্ষে দুই বছরের দণ্ড বহাল থাকলে তিনি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হয়ে যাবে। এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান সর্বোচ্চ আদালত থেকে সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ভোটে অযোগ্য হয়ে গেছেন।

এ কারণে বিএনপি তার নেত্রীর দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলেও এর মীমাংসা এখনই করতে রাজি নয়। আর এ কারণে আপিল বিভাগ আপিল নিস্পত্তির যে সময় বেধে দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে তারা।

হাইকোর্টের আদেশে গত ৩ জুলাই বিএনপি নেত্রীর দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে গিয়ে তাদের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি করে। দুই কার্যদিবস শুনানির পর আজ আপিল বিভাগ কী আদেশ দেয়, তার ওপর নজর ছিল বিএনপির।

এই আবেদনে আপিল বিভাগে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

খালেদা জিয়া যে মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, তাতে তার ছেলে তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড।

সেই সঙ্গে সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখেরও বেশি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৯০ দশকের শুরুতে এতিমখানার জন্য বিদেশ থেকে এই পরিমাণ টাকা এসেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় তহবিলে আসা সেই টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট খুলে সেখানে স্থানান্তর এবং পরে সেই টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে এফডিআরও করা হয। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলা হওয়ার আগে আগে অবশ্য টাকাটা আবার ট্রাস্টের হিসাবে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার পাশাপাশি কাজী সলিমুল হক কামাল এবং শরফুদ্দিন আপিল করেছেন। বাকি তিনজন পলাতকের পক্ষে আপিলের সুযোগ নেই।

দণ্ড হওয়া মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেলেও তিনি এখনও নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। কারণ, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তরি পরোয়ানা থাকা অন্য ছয়টি মামলায় এখনও জামিন হয়নি।