খালেদার দণ্ডের মীমাংসায় সময় দেড় মাস

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তিতে দেড় মাস সময় বেঁধে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী যে আপিল করেছেন, তা নিষ্পত্তি করতে হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে।

খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল তা বহাল রেখে বুধবার দেয়া আদেশে এই কথাটিও উল্লেখ করেছে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালত সময় বেঁধে দেয়ার পর এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই সময়ের মধ্যে আপিলের নিষ্পত্তি হবেই, সেটা বলা যায় না।

গত ২২ মার্চ খালেদা জিয়ার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি সাহেদুল করিমের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেখানেই হবে এই শুনানি।

গত ১২ মার্চ এই বেঞ্চই খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয়ার পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে পেপার বুক তৈরি করতে নির্দেশ দেয়। তখন জানানো হয়, পেপার বুক তৈরির পর রাষ্ট্র বা আসামিপক্ষ-যে কারও আবেদনে শুরু হবে শুনানি।

গত ৮ মে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন জানান, পেপার বুক তৈরি হয়ে গেছে। কাজেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জামিন না দিয়ে যেন আপিলের মীমাংসা করা হয়।

খালেদা জিয়ার মামলাটি বিচারিক আদালতে চলেছে প্রায় ১০ বছর। ২০০৮ সালে দুদক মামলাটি করার পর বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা এক কার্যক্রম বিলম্বিত করতে নানা কৌশল নিয়েছিলেন জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তি চাইছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবী।

মামলার বাদী দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘আপিল শুনানির জন্য আমরা প্রস্তুত। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।’

এই আদেশ মানা বাধ্যতামূলক কি না জানতে চাইলে খুরশিদ বলেন, ‘এটা সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ। অবশ্যই ওই সময়ের মধ্যে এটি নিষ্পত্তি করতে হবে।’

তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মনে করেন আপিল বিভাগ নিষ্পত্তির জন্য সময় বেঁধে দিলেও এই সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে হবে এমনটা না। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি আদেশের সাথে আদালত এটা দিয়েই থাকেন। তবে এটা বাধ্যতামূলক নয়।’

একই প্রশ্নে বিএনপি নেত্রীর আরেক আইনজীবী বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, ‘শুনানি শুরু হলে তখন বোঝা যাবে। শুনানির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তখন বোঝা যাবে, কতদিন লাগবে। এটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে।

একই মামলায় খালেদাপুত্র তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির ১০ বছর কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ অর্থদণ্ড হয়েছে। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়।

বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিলের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে আবেদন আছে দুদকেরও। তারা খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছে। বিচারিক আদালত খালেদা জিয়ার বয়স, লিঙ্গ এবং সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় কম সাজা দেয়ার কথা জানিয়েছে। তবে দুদকের যুক্তি হচ্ছে, খালেদা জিয়া প্রধান আসামি। অন্য আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড হলে তার কম সাজা হতে পারে না।

Inline
Inline