খালেদার জা‌মিন কেন বাতিল নয়: আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএন‌পি চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়ার জা‌মিন কেন বা‌তিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার পুরাতন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের আদালত এই আদেশ দেন। আগামী ৭ অক্টোবর এ বিষ‌য়ে শুনা‌নির জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এছাড়া আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার প‌ক্ষে ডি‌পেন্ড কর‌ছেন কিন্তু রি‌প্রে‌জেন্ট কর‌ছেন না এ বিষ‌য়ে আইনগত ব্যাখ্যা দি‌তে আদেশ দি‌য়ে‌ছেন আদালত।

একইস‌ঙ্গে মামলার দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে করা অনাস্থা আবেদন নামঞ্জুর ক‌রে‌ছেন আদালত। এছাড়া মনিরুল ইসলাম খানের জা‌মিন বা‌তিল ক‌রে কারাগা‌রে পাঠা‌নোর নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত করে রায় ঘোষণা করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের উপর কোনো আদেশ দেন‌নি আদালত।

আদালতে দুদকের প‌ক্ষে শুনা‌নি ক‌রেন আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। অপরদিকে খালেদা জিয়ার প‌ক্ষে শুনা‌নি ক‌রেন সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহ‌মেদ তালুকদার। আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার প‌ক্ষে শুনা‌নি ক‌রেন আমিনুল ইসলাম। মনিরুল ইসলাম খানের প‌ক্ষে ছি‌লেন আক্তারুজ্জামান।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদার অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারের আদেশ দেয়ায় আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করলে বিচারকের প্রতি অনাস্থা দেন তাদের আইনজীবীরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর থেকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বিএনপি প্রধান।

Inline
Inline