খালেদাকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে পুরনো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিএনপিনেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

খালেদাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ বোর্ড গঠনের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

অবশ্য বিএনপিনেত্রী বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে রাজি নন। গত ৭ এপ্রিল তাকে এ হাসপাতালে এনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এরপর আরও একবার আনার উদ্যোগ নেয়া হলেও তিনি আসতে রাজি হননি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী রাজধানীর কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানায়। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড হবে।

পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তারা কারাগারে গিয়ে খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

সেপ্টেম্বরে খালেদার চিকিৎসায় সরকার যে মেডিকেল গঠন করে দিয়েছিল, তার তিন সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন তিনজনকে সেখানে দায়িত্ব দিতে বলেছে আদালত।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী এবং ফিজিকাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ বোর্ডে থাকবেন।

আর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী এবং চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলীর বদলে নতুন তিনজনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করে দেবে সরকার।

তবে এই তিনজনের কেউ কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ে সরকারসমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচীপ) বা বিএনপি সমর্থক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বর্তমান বা প্রাক্তন সদস্য কিংবা সমর্থক হতে পারবেন না।

হাইকোর্ট বলেছে, খালেদা জিয়া তার পছন্দমত ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। পরে বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি অন্য কোনো মামলায় আর হাজিরা দেননি। এজন্য জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারে কারাগারের ভেতরে বসে আদালত।

গত ৪ সেপ্টেম্বর কারাগারের ভেতর আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া তার অসুস্থতার কথা জানান। বিচারকের উদ্দেশে খালেদা বলেন, ‘আমার হাতের অবস্থা ভালো না। ডাক্তার বলছে, পা ঝুলিয়ে রাখলে ফুলে যাবে। রিপোর্ট দেখলে বুঝতেন আমার শরীরের অবস্থা কী। সুতরাং যা ইচ্ছা সাজা দিন, আমি আর আসতে পারব না।’