খাদ্য ব্যবসায় জড়িত ২৫ লাখ ব্যবসায়ী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দেশের প্রায় ২৫ লাখ ব্যবসায়ী খাদ্য ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। তিনি বলেছেন, বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ ব্যবসায়ী খাদ্য ব্যবসায় নিয়োজিত। তাঁদের মধ্যে ১৫ লাখ সরাসরি, বাকি ১০ লাখ পরোক্ষভাবে জড়িত। খাদ্য ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক—এমন তথ্য দিয়ে মাহফুজুল হক বলেন, ‘তাঁদের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা খুবই কঠিন কাজ। সে জন্য আমরা জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছি। জনগণকে সচেতন করতে পারলেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, শাকসবজি ও ফলমূলে ফরমালিন মেশানোর কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে নকল বা কৃত্রিম ডিমের অস্তিত্ব তাঁরা পাননি। তরমুজের মধ্যে রং মেশানোর অভিযোগও সঠিক নয়। রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ফুড সেফটি কনফারেন্স-২০১৭ (নিরাপদ খাদ্য সম্মেলন) বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএফএসএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ফুড সেফটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), এমসিসিআই, বিএফএসএ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সম্মিলিতভাবে দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। মাহফুজুল হক বলেন, ‘নাগরিক সমাজের অনেকেই মনে করেন, ফরমালিন মিশ্রিত বলে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া যাবে না এ ধারণার কারণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কারণ, শাকসবজি ও ফলমূল পুষ্টির বড় উৎস, যা অন্য কোনো কিছু দিয়ে মেটানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত ও গবেষণা করে দেখেছি, শাকসবজি ও ফলমূলে ফরমালিন মিশ্রণের কোনো সুযোগ নাই। আপেলেও ফরমালিন দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। বিএফএসএর চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক সুপারশপে আপেলের ওপর লেখা থাকে, “আমি ফরমালিনমুক্ত”। এটি কিন্তু ভুল। কারণ, আপেলে ২৩ পিপিএম প্রাকৃতিক ফরমালিন আছে। আমের মধ্যে প্রাকৃতিক ফরমালিন থাকে। আমরা যে যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করেছিলাম সেটি ভুল ছিল।’ তিনি বলেন, ‘প্রায়ই অভিযোগ আসে, বাজারে নকল বা কৃত্রিম ডিম পাওয়া যাচ্ছে এবং তরমুজের মধ্যে ক্ষতিকর রং মেশানো হচ্ছে। তবে আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এসবের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। এফআইসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট রুপালি চৌধুরী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রথমেই সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সম্মেলনটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। আয়োজক কমিটির সচিব নকিব খান বলেন, ‘দেশ হিসেবে আমরা খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে এখনো অনেক দূর যেতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এটি অর্জন সম্ভব নয়। তাই সব পক্ষকে নিয়ে প্রথমবারের মতো নিরাপদ খাদ্য সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ, দেশের শিল্পোদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের সদস্যসচিব ফারুক আহমেদ ও বিএসটিআইয়ের পরিচালক এ এন এম আসাদুজ্জামান। সম্মেলনের ডায়মন্ড স্পনসর নেসলে, কোকা-কোলা, জিএসকে ও পেপসিকো; গোল্ড স্পনসর ফ্রুটো, ইউনিলিভার, স্কয়ার, পারফেটি ভ্যান ম্যালে, মেঘনা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, আড়ং ডেইরি, গ্লোবাল ও ইফাদ এবং সিলভার স্পনসর হচ্ছে পোলার, নিউজিল্যান্ড ডেইরি, লালমাই গ্রুপ, মার্কস, স্বপ্ন ও পুষ্টি।