কয়রায় আবেদার মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন : পিতামাতার দাবী হত্যাকান্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা : কয়রায় গৃহবধু আবেদা খাতুনের মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মৃতের মা বাবার দাবী আত্মহত্যা নয়, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
খুলনা শহরের সবেদাতলার বাসিন্দা আজিজুল শেখের কন্যা আবেদা খাতুনের(২৫) সাথে কয়রা থানাধীন পাটনীখালী গ্রামের আলী গাজীর পুত্র শহীদ গাজীর(৩২) সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক প্রায় ৯ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই বিভিন্ন তাল বাহানা করে আবেদার স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ী আবেদার পিতা মাতা এমনকি তার দাদীর কাছ থেকেও যৌতুক বাবদ টাকা নেয়। স্বামীর ঘরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আবেদার পিতা মাতা জামাই শহীদকে যৌতুক দেয়। কিন্তু আবেদার উপর স্বামী শ্বশুর শ্বাশুড়ীর নির্যাতন থেমে থাকে না। গত রোজার ঈদ এবং কোরবানীর ঈদে আবেদাকে তার পিত্রালয়ে যেতে দেয়নি যৌতুকলোভী ও নির্যাতনকারী জামাই শহীদ গাজী। মায়ের কু পরামর্শে শহীদ গাজী নিজ স্ত্রীকে নির্যাতন করতে দ্বিধা করত না। এছাড়া আবেদার ননদ আন্না ভাইকে কু পরামর্শ দিত। এসকল তথ্য আবেদার পিতা আজিজুল শেখ কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান।
ঘটনার দিন শ্বাশুড়ীকে কেন পিঠা হাতে তুলে দেয়া হয়নি এ জন্য আবেদার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আবেদা মারা যায় বলে নিহতের পরিবার জানায়। নির্যাতনের সংবাদ আবেদা ফোন করে আমাকে জানায় বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আবেদার পিতা আজিজুল শেখ। তিনি দাবী করেন, ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে তার মেয়েকে হত্যা করে জামাই শহীদ শেখ ও তার মা দু’জনে মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। সুরতহাল রিপোর্টে আবেদার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। নিহত আবেদার ২ বছরের এক কন্যা এবং ৫ বছর বয়সের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। আজিজুল শেখ তার কন্যার হত্যাকান্ডের সুবিচার দাবী করেন।

Inline
Inline