কোনো সংলাপ ব্যর্থ হয় না: ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে আগামী নির্বাচন নিয়ে জট খোলার আশায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের বৈঠকের পর জোটের নেতা আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘কোনো সংলাপ ব্যর্থ হয় না।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন গত রবিবার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন। পরদিন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান তারা রাজি। তারও পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি যায় ড. কামালের কাছে। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রন্ট নেতাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন গণভবনে।

এই চিঠি পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকালে কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে বৈঠকে বসেন ফ্রন্টের নেতারা। কারা কারা গণভবনে যাবেন, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় মোট ১৬ জন যাবেন সেখানে। তবে এই ১৬ জন কারা, সেই বিষয়টি জানানো হয়নি।

বৈঠকের পর ফ্রন্টের শরিক জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রব কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে। আমরা ১৫ জন যাব। আর আমাদের নেতা থাকবেন ড. কামাল হোসেন। তিনি এই ১৫ জনের বাইরে।

ফ্রন্ট নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়াসহ সাত দফা দাবি তারা তুলে ধরবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে উল্লেখ আছে সংবিধানসম্মত বিষয়ে আলোচনার বিষয়টি।

সংবিধানের ভেতরে থেকে আলোচনা হলে ঐক্যফ্রন্টের মূল দাবিই উঠে আসার কথা নয়। তাহলে এই সংলাপ নিয়ে কী প্রত্যাশা করছেন-প্রশ্ন ছিল রবের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, বলেন, ‘গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে সব বিষয়ে আলোচনা হবে। আমি আশা করি সংলাপের মাধ্যমে আগামী দিনে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। কোন সংলাপ ব্যর্থ হয় না।’

সংলাপে বিএনপির কারা যাবে?- এমন প্রশ্নে রব বলেন, ‘আজকে কিছু বলব না, সবই আলোচনা হবে। বিএনপির প্রতিনিধি আছে, ঐক্যপ্রক্রিয়ার প্রতিনিধি আছে, গণফোরামের প্রতিনিধি আছে, জেএসডির প্রতিনিধি আছে, নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধি আছে।’

বিএনপির মহাসচিব এই সংলাপে যাবে কি না?- এমন প্রশ্নে রব বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব একশ বার যাবে এই সংলাপে। ওনাকে বাদ দিয়ে তো এই সংলাপ হবে না।’

রব কথা বলার আগে বৈঠক থেকে বের হয়ে আসেন ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, সংলাপে কারা যাবেন তা আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত হয়নি, পরবর্তী বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি নিয়েও রবের কাছে প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা। দুর্নীতির মোট দুটি মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে বিচারিক আদালতে একটি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড উচ্চ আদালতে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে। আর আরেক মামলায় বিচারিক আদালত সাত বছরের দণ্ড দিয়েছে।

রব বলেন, ‘আমরা মনে করি খালেদা জিয়ার এ মামলাটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। বেগম খালেদা জিয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে পারেন, এটা তো মানুষ বিশ্বাস করে না। আমি কী করে বিশ্বাস করব? অতএব আমরা এটার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।’

বৈঠকে রব ও জাফরুল্লাহ ছাড়াও যোগ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ।