কোটি টাকা ‘চাঁদা’: স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় চট্টগ্রাম মহানগরে নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেবাশীষ নাথ দেবু ও এটিএম মনজুরুল ইসলাম রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে নগরীর সাগরিকা থেকে দেবাশীষ নাথ দেবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে মুরাদপুর থেকে এটিএম মনজুরুল ইসলাম রতনকে ধরা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহি উদ্দিন মাহমুদ। বন্ধন নাথ নামে এক কুয়েত প্রবাসী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

দেবাশীষ নাথ দেবু নগরীর পাঁচলাইশ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে পদ না থাকলেও প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক দেবু।

পদ না থাকলেও মনজুরুলও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজেকে পরিচয় দেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, নগরীর পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাছিরাবাদ এলাকায় ২০০৭ সালে একটি পুরনো ভবন কেনার পর সেটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরির চেষ্টা করছিলেন বন্ধন নাথ। ২০১৬ সালে ডিজাইন সোর্স টিম লিমিটেড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে ভবন তৈরির দায়িত্ব দেন তিনি।

২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরুর পর দেবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এসে ভবন তৈরি করতে হলে তাদের এক কোটি টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বন্ধনকে মারধর এবং পিঠের ডান পাশে গুলি করে গুরুতর জখম করে বলে মামলার আরজিতে দাবি করা হয়েছে।

পরে বন্ধন কুয়েত গিয়ে প্রাইম ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে দেবুসহ সন্ত্রাসীদের ৭০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন।

এর মধ্যে ২০১৭ সালে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সেখানে ভবন নির্মাণে অস্বীকৃতি জানায। বন্ধন নাথ তার শুভাকাঙ্খী পাঁচজনের সঙ্গে মিলে সেখানে ভবন তৈরির কাজে হাত দেন।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরুর পর আবারও সন্ত্রাসীরা এসে আরও ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য করে।

এই অবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি বন্ধন নাথ পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে।

পুলিশ কর্মকর্তা মহি উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তাারে অভিযান শুরু করেছি। দুজনকে ধরাা হয়েছে। আশা করছি বাকিদেরও গ্রেপ্তার করতে পারব।

দেবুর ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, বন্ধন নাথ যে পুরনো ভবন কিনেন, সেটির মধ্যস্থতা করেছিলেন দেবু। মধ্যস্থতা বাবদ পাওনা টাকা পরিশোধে পরে অস্বীকৃতি জানান বন্ধন। মূলত এর থেকেই বিরোধের শুরু হয়।

তবে এই বিষয়ে জানার জন্য বেশ কয়েকবার বন্ধন নাথের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।