কোটি টাকার মার্কেট রেখে মহাসড়কে বাজার!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ পৌরসভার ওয়েজখালী এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কিচেন মার্কেট পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে মহাসড়কের ওপর বাজার বসিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়কের দুইপাশ দখল করে মাছ ও সবজি বাজার বসানোয় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ওই অংশে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সড়কের যাত্রীরা। অনেক সময় ঘটে ছোট-বড় দূর্ঘটনা।

জানা যায়, সড়কের দুই পাশ থেকে বাজার সরাতে সুনামগঞ্জ পৌরসভা ২০১৪ সালে ওয়েজখালী পৌর মিনি কিচেন মার্কেট নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পরও অধিক গ্রাহক পাওয়ার লোভে নিয়মনীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের দুইপাশে রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়কের দুপাশ দখল করে ব্যবসা করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনার ভিড়ে সৃষ্ট যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারীসহ এলাকার সাধারণ মানুষদেরকে।

জানা যায়, কিচেন মার্কেট নির্মাণের পর ২০১৫ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কের অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনিক নজরদারি শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ফের সড়কের দুপাশ দখলে নেয়। সেই থেকে অদ্যাবধি অবৈধ ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় সড়কের ওপর কর্তৃত্ব বহাল রেখে চলছে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তারা এ সড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াত করলেও এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে কেউ কোনো ভূমিকা রাখছেন না।

এদিকে, পৌরসভা কর্তৃক প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়েজখালী পৌর মিনি কিচেন মার্কেটটি এখন গরু-ছাগলের বিচরণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যবসা-বানিজ্য চালু না হওয়ায় কেউ কেউ এটিকে কাঠ রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে, সড়কের দুপাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা মাছ ও সবজি বাজারের কারণে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। নষ্ট সবজি ও পঁচা মাছের উচ্ছিষ্ট অংশ সড়কে যত্রতত্র ফেলে রাখায় পরিবেশে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোঃ আলাল মিয়া বলেন, ‘আমি একা নই, সবাই অবৈধ ভাবে সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে। সবাইকে উচ্ছেদ করলে আমিও চলে যাব’।

অপর ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, ‘পৌরসভার দেওয়া মিনি কিচেন মার্কেটে কাস্টমার যায়না। মাছ বিক্রি হয়না, তাই সড়কের পাশে যেখানে মানুষের আনাগোনা আছে সেখানে ব্যবসা করছি’।

সড়কের পাশে কিচেন মার্কেট তৈরি করে দিলে ব্যবহার করবেন বলে জানান আরেক মাছ ব্যবসায়ী জমিরিন মিয়া।

পথচারী কানন দাস জিপু বলেন, ‘রোজ সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। এই সড়ক দিয়ে সবসময়ই ভারী যান চলাচল করে। জেলা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক এটি। সড়ক দখল করে ব্যবসা করায় এখানে যান ও মানুষের ভিড় লেগে থাকে। অথচ এদের উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না’।

সিএনজি চালক কবির হোসেন বলেন, ‘সড়কের ওপর ব্যবসা চলায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এখানে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে অহেতুক সময় ব্যয় হয়। ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হয়’।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে সড়ক দখল করে আছে শিগ্রই তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান হবে। শুধু এই সড়ক নয়, অন্যান্য সকল সড়কেও অভিযান চালানো হবে’।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুবিধার্থে কিচেন মার্কেট নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে, অথচ তারা এটি ব্যবহার না করে অবৈধভাবে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এদের পিছনে কিছু অপরাজনৈতিক ইন্ধন কাজ করছে। শিগ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাস আব্দুল আহাদ বলেন, ‘এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে’।