কোটা বিষয়ে প্রথম বৈঠকে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেছে। কমিটি গঠনের এক সপ্তাহ পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে এই বৈঠক শুরু হয়েছে।

গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ কমিটি গঠন করে আদেশ জারি করা হয়। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ শতাংশ, জেলা ও নারী কোটায় ১০ শতাংশ করে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় পাঁচ ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা তাদের সন্তান এবং নাতিপুতিও পেয়ে আসছে। কিন্তু ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে একাত্তরের রণাঙ্গণের যোদ্ধাদের সন্তানদের এই সুবিধার আওতায় আনার পর নানা সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। এর শুরুটা করে জামায়াত-শিবির অনুসারীরা।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোনো বিশেষ কোটার নাম না তুলে সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়।

আর গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। সে সময় আন্দোলনকারীরা একে স্বাগত জানায়। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় তারা অস্থিরতা দেখাচ্ছে।

এর মধ্যে গত ২৭ জুন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁনের এক ভিডিও বার্তায় ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য আসার পর পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। আক্রমণ হয় কোটা আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতার ওপর। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে হাতুড়িপেটাও করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে গত সোমবার কোটা সংস্কার/বাতিল বিষয়ে সুপারিশ করতে কমিটি গঠনের পর আন্দোলনকারীরা আবার অপেক্ষায় থাকছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা কেবল ১১ এপ্রিল নয়, গত ২ মে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন এবং সবশেষ গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদে তিনি আবারও বলেন, কোটা থাকবে না। তবে কোটা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত যে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের নয়, সেটিও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন নানাভাবে। তার মতে, এতে ক্ষতির মুখে পড়বে জেলা পর্যায়ের ছেলে-মেয়েরা।

Inline
Inline