কোটা আন্দোলন: আবার ছাত্রলীগের হামলা, আটক দুই

ঢাবি প্রতিনিধি : সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর দুই দিনের ব্যবধানেই আবার হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। দুই আন্দোলনকারীকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনের নেতাদের পিটুনির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে এই হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

কোট নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ১৫-২০ জন মানববন্ধনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসেছে আমাদের ওপর হামলা করে। আমি দৌড় দিয়ে পালাতে পারলেও ফারুকসহ কয়েকজন মারধর করে তারা। পরে ফারুকে শাহবাগ থানায় পুলিশে দিয়ে বলেও শুনেছি।’

এই দুই জনের একজন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ফারুক হাসান এবং অপর একজন ছাত্রী বলে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত আবুল হাসান। তবে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

সরকারি চাকরিতে কোটার সংখ্যা ৫৬ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন গড়ে উঠে। ৮ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষের পর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়। আর ১১ এপ্রিল সংসদে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কোনো কোটা থাকবে না।

এরপর ছাত্ররা ক্লাসে ফিরে গেলেও সম্প্রতি আবার দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি দিচ্ছিল তারা। এর মধ্যে কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন ফেসবুকে। এখানে কোটা বাতিলের বিষয়ে সরকারের ঘোষণাকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তার রক্ত গরম হয়ে গেছে।

অন্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেরার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ বলেন, তারা কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ভিডিওতে রাশেদ এমনও বলেন ‘মনে হচ্ছে তার বাপের দেশ। সে একাই দেশের মালিক। ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা বলবে, আর আমরা কোনো কথা বলতে পারব না।’

রাশেদ তাদের পক্ষে নেমে আসতে প্রবাসীদের প্রতিও আহ্বান জানান। বলেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স ভিন্নখাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শনিবার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নেতাদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। তারা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরকে ব্যাপক পেটায়।

ছাত্রলীগের একজন নেতা এরই মধ্যে রাশেদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন। আর রবিবার রাশেদসহ আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করবে তারা।