কোটালীপাড়ায় ফুট-তরমুজ চাষিদের মুখে হাসি নেই

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফুট-তরমুজের চাষ করা হয়ে থাকে। তাই প্রতি বছর ফুট-তরমুজ থেকে এখানকার কৃষকরা প্রচুর অর্থ আয় করেন কিন্তু এ বছর তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।
কোটালীপাড়া উপজেলায় এবার মোট ৮১০ হেক্টর জমিতে ফুট-তরমুজের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্য ৩১০ হেক্টর জমিতে ফুট চাষ ও ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ফুট-তরমুজ গাছের গোড়ায় পানি জমে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তেমন ভাল ফলন হয়নি। তাই কৃষকের মাঝে নেই কোন হাসি-আনন্দ।
এখানকার অধিকাংশ কৃষক বিভিন্ন এনজিও থেকে এবং চড়া সুদে টাকা এনে এই ফুট-তরমুজ চাষ করেন। ভাল ফলন ফলিয়ে পাওনাদারদের টাকা মিটিয়ে দিয়ে বছরের খরচের টাকা জমা করে রাখেন। এ বছর তার ব্যতিক্রম হবে বলে জানান এখানকার কৃষকেরা।
মিলন অধিকারী নামে এক তরমুজ চাষী বলেন, মাত্র তিন থেকে চার মাস কষ্ট করলে এক বিঘা (৫২শতাংশ) জমিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ফুট-তরমুজ ফলানো সম্ভব। আর সেখানে গত মাসে প্রচুর বৃষ্টির কারণে সব ফুট-তরমুজ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভাল ফল না হওয়াতে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে। তবে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শে আমরা খরচের টাকাটা ঘরে তুলতে সম্ভব হবো। প্রতি বিঘা জমিতে ফুট-তরমুজের চাষ করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ আছে বলে জানান তিনি।
এদিকে জমিতে ফুট-তরমুজ না থাকায় তরমুজ আড়ৎদারেরা লাভের আশায় লক্ষ লক্ষ টাকা স্থানীয় পাইকারদের কাছে দিয়ে আরো সমস্যায় আছেন।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন চায়ের দোকান, মনোহরির দোকান, মুদির দোকান, খাবারের দোকানে ক্রেতাদের কোন ভিড় নেই। গত কয়েক দিন ধরে প্রচুর বৃষ্টির কারণে ফুট-তরমুজসহ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষের মাঝে নেই কোন হাসি, আনন্দ।