কে হবেন খুলনার প্রার্থী?

খুলনা সিটি করপোরেশ নির্বাচনে গত দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে লড়া তালুকদার আবদুল খালেক এবার আর ভোটে আগ্রহী নন। সেটি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন দলকে। এই অবস্থায় সেখানে নৌকা প্রতীক পেতে মাঠে সক্রিয় আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেখান থেকেই প্রার্থী হতে আগ্রহী। আর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার।

আগামী ৩১ মার্চ যে দুটি সিটি করপোরেশনে ভোটের তফসিল ঘোষণা হচ্ছে তার একটি খুলনা। আর নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত জানানোর আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে অনেক আগেই একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন। আওয়ামী লীগে তালুকদার খালেক ভোট না করলে কাকে প্রার্থী করা হবে, সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা।

বিএনপি থেকে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির নামটিই সর্বাগ্রে আসছে। যদিও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এসএম শফিকুল আলম মনাও ভোটে আগ্রহী।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর থানার সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী ও খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিসুর রহমান পপলু দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছন।

এই তিন জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত নগরীতে জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকবার নির্বাচিত সভাপতি সরদার আনিসুর রহমান পপলুর নামই বেশি আলোচনায় আসছে। তালুকদার আব্দুল খালেক প্রার্থী না হলে সরদার আনিসুর রহমান প্রার্থী হবেন-এমনটা জোর দিয়ে বলছেন তার সমর্থকরা।

তবে পিছিয়ে নেই সাইফুল ইসলামও। তিনি অনেক আগে থেকেই নগরীতে তোরণ, প্যানা ঝুলিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে শেখ সৈয়দ আলী খুলনার একটি বড় রাজনৈতিক পরিবারের মুরুব্বীর আশীর্বাদ পেয়েছেন বলে নগরজুড়ে সেই আলোচনা চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সমর্থনও রয়েছে তার প্রতি।

শেখ সৈয়দ আলী বলেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ তবে দলীয় প্রার্থী যেই হোক না কেনো তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন সৈয়দ আলী।

সরদার আনিসুর রহমান পপলু বলেন, ‘দলীয় মনোনায়নে আগ্রহের বিষয়টি দলের হাইকমান্ডে জানিয়েছি। দল চাইলে আমাকে মনোনয়ন দেবে। তাছাড়া দলের তৃণমূল পর্যায় হতে সর্বত্রই মেয়র নির্বাচনে তার প্রার্থীতার বিষয়ে জোর সাড়া রয়েছে।’

‘তবে দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়। তাহলে তার হয়েই কাজ করব।’

গত তিন বার খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোট হয়েছে নির্দলীয়ভাবে। তবে এবার ভোট হবে দলীয় প্রতীকে। আর প্রথমবার খুলনা সিটিতে নৌকা প্রতীক এদের মধ্য থেকেই একজন পাবেন, এমনটাও নিশ্চিত নয়।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো এখানে শেখ হাসিনা চমক দিতে পারেন। তবে চমক কে হতে পারেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো ধারণা দিতে পারছেন না খুলনার স্থানীয় নেতারা।

খুলনা এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগের শক্তিশালী অবস্থান ছিল। পরে মুসলিম লীগ বিলুপ্ত করে বিএনপিকে একীভূত হলে সেই সুফল পায় তারা। খুলনা মহানগরে বেশিরভাগ নির্বাচনেও জিতেছেন দলের সমর্থক প্রার্থীরা। যদিও গত কয়েক বছরে সেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের। তারা বলছেন, খুলনায় বিএনপি বলার মতো কোনো কাজই করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেখানে বন্ধ কলকারখানা চালু করা ছাড়াও উন্নয়নের নানাবিধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এতে জনসমর্থন আওয়ামী লীগের দিকেই ঝুঁকেছে এখন।

Inline
Inline