‘কে জানতো দিতি আপার সেই কথাগুলোই বাস্তব হবে!’

দীর্ঘদিন ধরেই ফিরোজ শাহী প্রযোজিত ও রয়েল খান পরিচালিত চিত্রনায়িকা দিতি’র সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘এই গল্পে ভালোবাসা নেই’ মুক্তির দিন গুনছে। কিন্তু কয়েক দফা ছবিটি পেছানোর কারণ হিসেবে খোদ প্রযোজকের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, ‘আমাদের ছবিটি সম্পাদনাসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এরপরও আমরা মূলত সময় নিয়েছি বেশ কয়েকটি কারণে। এর ভেতরে প্রধানতম কারণ হলো দিতি আপার হঠাৎ অসুস্থতা এবং তার এই অকাল প্রয়ান। কারণ আমাদের এই ছবিটিতে দিতি আপা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি রিলিজ নিয়েও দিতি আপাসহ আমরা বেশ কিছু প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু তার মৃত্যু আমাদের থমকিয়ে দিয়েছে।’

ফিরোজ আরো বলেন, ‘অনুষ্ঠান সেটে বারবার বিভিন্ন রকম আড্ডা আলাপেই দিতি আপা বলতেন, ‘দেখিস আর হয়তো তোদের সাথে কাজ করার সুযোগ হবে না। হতেও তো পারে এটাই আমার শেষ ছবি। এমন কথাগুলো আমরা ¯্রফে আড্ডার অনুসঙ্গ হিসেবেই ভাবতাম, কিন্তু তার ঐসব কথাই যে বাস্তবে রূপ নেবে, কে বুঝেছিল। সত্যিই আমাদের কষ্ট হচ্ছে এসব ভেবে। কারণ এসব কথা পুরো ইউনিটের অনেকের সামনেই বলতেন। তার মৃত্যুর পর সাথে সাথেই তড়িঘড়ি করে আমরা ছবিটি রিলিজ দিতেই পারতাম। কিন্তু আপার মৃত্যুকে নিয়ে তার সর্বশেষ ছবি বলে ‘আমরা বানিজ্য করবো’ এরকম সবাই বলাবলি করতো। একারণেই আমরা পিছিয়েছি। কারণ এই ছবিটির পরিকল্পনা পর্যায় থেকে তিনি আমাদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন।’

ছবিটির নায়ক ফিরোজ শাহী প্রথম চলচ্চিত্র এটি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র, তাই আমার পরিচালক রয়েলকে নিয়ে প্রথম মিটিং এর পর থেকেই দিতি আপা আমার চলচ্চিত্র নিয়ে নানান পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি ছবির বেশ কিছু কাস্টিং এর ব্যাপারেও তার পরামর্শ ছিল।’

উল্লেখ্য, ছবিটির চিত্রনায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন তানহা। তারও এটি ডেব্যু ফিল্ম। দিতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমার চরিত্রের কারণেই দিতি আপুকে আম্মু ডাকতাম। পরবর্তীতে সবসময় তাকে আম্মু বলেই সম্বোধন করেছি। ছবিতে একটি বিয়ের গানের সিকোয়েন্সে দিতি আপাকে নিয়ে যে আনন্দঘন সময় পার করেছি, তা ভোলার না। ছবিটি একসাথে বিভিন্ন হলে গিয়ে দেখবো এমনটাই প্ল্যান ছিল!’

এদিকে দিতির অবর্তমানে ছবি প্রচারণা ও অন্যান্য কাঝে ছবির প্রযোজনা সংস্থা দিতির পরিবারকে নিয়ে প্রিমিয়ার সহ আনুষ্ঠানিকতা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিরোজ শাহী বলেন,‘ আমরা আমাদের এই ছবিটি দিতি আপাকেই উৎসর্গ করছি। একই সাথে তার পরিবারের সদস্য তার দুই সন্তানকে নিয়েই আমরা প্রিমিয়ার সহ উদ্বোধন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের ইন্ডাষ্ট্রির সবার প্রিয় মুখ ছিলেন দিতি আপা। তাকে যথাযথ সম্মান জানিয়েই আমরা ছবিটি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’
উল্লেখ্য, ছবিটি আনকাট সেন্সরশীপ সার্টিফিকেট পেয়েছে অনেক আগেই। নতুন বছরের শুরুতেই ছবিটি রিলিজের তারিখ চুড়ান্ত করেছে। ছবির অন্যতম একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর। তিনি বলেন,‘ আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিতে দিতি আপার কোনো শত্রু ছিলো না। এমন ভালো মানুষদের ¯্রষ্টা কেন আগেই নিয়ে যান জানি না। ছবিটি ঘিরে আমার তার সাথে শেষ স্মৃতিটুকু সিনেমা হলে গিয়ে হয়তো আরো ব্যাথাতুর করে তুলবে!’