কেসিসি’র উদ্যোগে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন এ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরী এলাকায় শনিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন (২য় রাউন্ড) পালিত হচ্ছে। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সকাল ৯ টায় নগরীর মুজগুন্নী এলাকার শহীদ তিতুমীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একটি শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ভিটামিন ‘এ’ অপুষ্টিজনিত অন্ধত্বসহ শিশুদের বিভিন্ন জটিল রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, বাংলাদেশে ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে জাতীয় পুষ্টি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন করা হয়। একটি শিশুও যেন জাতীয় এ কর্মসূচী থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

কেসিসি’র কাউন্সিলর শেখ জাহিদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি’র কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা। অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-খুলনার সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন, শহীদ তিতুমীর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর কাজী সরোয়ারউল আযম মানু, কেসিসি’র সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, নিউট্রেশন-ইন্টারন্যাশনালের জেলা সমন্বয়কারী অমিত কুমার মালাকার, স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইউনুস আলী সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আব্দুল্লাহ।

উল্লেখ, ক্যাম্পেইনে মহানগরীর ৬-১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ৭’শ ৭৫ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৮১ হাজার ৬৭ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচী সফল করতে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ৫৮০টি কেন্দ্র, ৮০টি মোবাইল টিম এবং বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ৫০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬২ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১ হাজার ৪’শ ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছেন।

পরে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কেসিসি পরিচালিত খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজে অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় অটোমেশন স্থাপনের সুবিধাসমূহ তুলে ধরে সিটি মেয়র বলেন, অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে অভিভাবকগণ শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে প্রতিটি বিষয়ে তার দক্ষতা ও সকল পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে অবহিত হতে পারবেন। আধুনিক এ প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে অভিভাবকগণ তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ তৌহিদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য প্রফেসর গুলশান আরা বেগম, প্রফেসর ড. মোঃ সরোয়ার জাহান, প্রফেসর ড. মোছা: হোসনেআরা, আল জামাল ভূইয়া, কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন শেখ, অভিভাবকদের মধ্যে মোঃ জহিরুল ইসলাম, দেবু চক্রবর্তী, মোঃ ওলিয়ার রহমান, মিতু রহমান, অটোমেশন কোম্পানীর প্রতিনিধি মোঃ হাফিজুর রহমান প্রমুখ মতবিনিময় সভায় মতামত ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বপ্রথম আধুনিক এ প্রযুক্তি সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।