কৃষকদের উসকানি দিয়ে ধানে আগুন: খাদ্যমন্ত্রী

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, সরকারকে বিপর্যস্ত ও বিব্রত করতে একটি অশুভ চক্র কৃষকদের উসকানি দিয়ে সম্প্রতি ধানে আগুন দিচ্ছে। চক্রটি গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে বিশেষ উদ্দেশে নিয়ে গিয়ে তা ফলাও করে প্রচার করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন কৃষকদের নিয়ে ভাবতেন, তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও কৃষকবান্ধব সরকার। তাই এসব অশুভ চক্রান্ত ও পাঁয়তারা কোনো দিনই সফল হবে না। কেননা এ সরকার কৃষক বাঁচানোর সরকার। কৃষক মারার সরকার নয়।

‘অভ্যন্তরীন বোরো সংগ্রহ অভিযান-২০১৯’ এর উদ্বোধন উপলক্ষে বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের এলএসডি খাদ্য গুদামে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দফতর কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের উৎপাদিত চাল বিদেশে রফতানি করার পরিকল্পনা করছে সরকার। আমরা সরকারিভাবে প্রান্তিক কৃষক এবং মিলারদের নিকট থেকে ধান চাল ক্রয়ের যে বরাদ্দ দিয়েছি তা যেন জোরেশোরে ক্রয় করা হয়, যাতে বাজারে প্রভাব পড়ে। প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষক ছাড়া কোনো মিলার বা ঠিকাদারের কাছ থেকে এক ছটাকও ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে না। সরকারি দলের লোকজনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঝামেলা নয়, বরং কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিশ্চিত করতে তারা প্রতিনিয়ত পাহারা দেবে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য যে সকল এলাকায় বোরো ধান বেশি উৎপাদন হয় সেখানে আমরা যাতে ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনতে পারি সে ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার উদ্দিন শামীম, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান প্রমুখ।

চলতি বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন ধান, ২২হাজার ১০০ মেট্রিক টন বোরো চাল, আতপ চাল ৫ হাজার ৮২২ মেট্রিক টন এবং ২ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা কেজি, চাল ৩৬ টাকা, আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজি।