কুয়েতের টাকা কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্যাশ হয়েছিল: আদালত

মোঃ তপন দর্জী,মুন্সীগঞ্জ: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট কুয়েতের আমিরের দেয়া টাকা কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের এক পর্যায়ে আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীর কাছে ক্যাশ হওয়ার অ্যাকাউন্টের বিষয়টি জানতে চান বিচারক ড. আখতারুজ্জামান খান।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ মামলার বিচার কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে সপ্তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ জে মোহাম্মদ আলী। আগামী ১০ ও ১১ জানুয়ারি আবারও যুক্তি উপস্থাপনের সময় নির্ধারণ করেন আদালত।

সাতদিন ধরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপনে দেখানোর চেষ্টা করে আসছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকা দিয়েছেন কুয়েতের আমির। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এই টাকাটা এনেছেন। এটি একটি খয়রাতি টাকা। এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ নয়, ব্যক্তিগত অর্থ। এই অর্থের সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। অপরদিকে দুদকের আইনজীবীরা দেখানোর চেষ্টা করছেন এই টাকাটা রাষ্ট্রীয় অর্থ। প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের অর্থ এটি। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময় তার সন্তানদের নামে এই অর্থ বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ তছরুফ করেছেন।

যুক্তি উপস্থাপনের সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী আজও দেখানোর চেষ্টা করেন, খালেদা জিয়াকে মামলায় আসামি করতে কীভাবে নথি সৃজন করা হয়েছে। এরপর তিনি টাকার উৎসের বিষয়ে তার যুক্তি উপস্থাপন করেন।

টাকার উৎসের বিষয়ে আদালতে তিনি জানান, ঢাকায় অবস্থিত কুয়েত অ্যাম্বেসির মাধ্যমে টাকার ব্যাপারে কুয়েতের আমিরের বক্তব্য জানতে চেয়েছিলাম। তারাও এর জবাব দিয়েছেন। কুয়েতের আমির জানিয়েছেন, এ অর্থ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে এ টাকা পাঠানো হয়েছে। এরপর তিনি কুয়েটের রাষ্ট্রদূত কার্যালয়ের একটি নোটারি করা কাগজ আদালতে পড়ে শোনান।

এ সময় বিচারক আখতারুজ্জামান বলেন, আমাকে জানান, কুয়েতের আমির যে টাকাটা দিলেন তা কোন অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ করেছিলেন?

এজে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, এটা পাবলিক তহবিল কি না, সেটা আগে নির্ণয় করতে হবে। এই টাকার উৎস নির্ণয় করা জরুরি। আমরা দেখিয়েছি, এই টাকাটা দিয়েছেন কুয়েতের আমির। টাকা ব্যাংকে এসেছে কিন্তু খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আদালত বলেন, কত টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে দিয়েছিল।

মোহাম্মদ আলী বলেন, এতে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান বলেন, নথিতে আসেন। প্রসিকিউশন কোথাও প্রমাণ করতে পারেননি যে খালেদা জিয়া জড়িত। তিনি পিডাব্লিউ-১২ উল্লেখ করে বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রমাণ হয়নি। এই সাক্ষী শুধু বলেছেন, তার সামনে সিজার লিস্ট করা হয়েছে। তিনি আদালতের জেরায় বলেছেন, অ্যাকাউন্টে কার হাতের লেখা তা তার জানা নেই।

আদালত থেকে বের হয়ে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তিতর্কে এসে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ক্যাশ করা হয়েছিল তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা আদালতের জাবাব দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, টাকা এসেছে খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকীর কার অ্যাকাউন্টে। মুখ্য সচিব হিসেবে তিনি খালেদা জিয়ার সকল তহবিল, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলার চেষ্টা করছেন এটা পাবলিক ফান্ড নয়, প্রাইভেট ভান্ড। কামাল সিদ্দিকীর ওপর সব দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন তারা। তবে এ বিষয়ে আমিও জবাব দেব।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

Inline
Inline