কুয়েটের চার ছাত্র নিহত: ক্ষতিপূরণের দাবি সহপাঠীদের

খুলনা : ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণে নিহত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) চার শিক্ষার্থী পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বিকাল থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের ডাকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ অনশন শুরু করা হয়।

অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিভাগের চার শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আজ আমরা শোকে বাকরুদ্ধ। এসব শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার টাকা কুয়েট প্রশাসন দিয়েছে। বাকি টাকা কুয়েট শিক্ষার্থীসহ দেশ বিদেশের সাবেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। তারপরও তাদের বাঁচানো যায়নি। আমাদের একটা দাবি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে কুয়েট প্রশাসন ১ কোটি টাকা করে সর্বমোট চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের টাকা রবিবার দুপুর ১টার মধ্যে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বণ্টন করতে বাধ্য থাকবে। এই টাকা পরিবারের হাতে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন পালন করব।

১ কোটি টাকা করে হস্তান্তর না করা হলে রবিবার আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক জিএস ইয়াসির আরাফাত বলেন, আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেটের ৬০তম (জরুরি) সভা শনিবার দুপুরে ডাকা হয়। মিটিং এ সিন্ডিকেটের মেম্বাররা সিদ্ধান্ত নেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে অনুদান এবং প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের তাদের শিক্ষাগতা যোগ্যতারভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সবার পরিবারের সদস্যরা খেটে খাওয়া মানুষ এবং দুইজনের বাবা নেই। তৌহিদের বাবা প্যারালাইজড। বিশ্ববিদ্যালয় কাদের চাকরি দেবে? আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। আমাদের প্রস্তাবিত দাবি প্রত্যেক পরিবারকে কমপক্ষে ১ কোটি টাকার সাহায্য না দেয়া পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন অব্যাহত থাকবে।

অনশনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর জানান, প্রত্যেক পরিবারকে ১ কোটি টাকা প্রদান করা সম্ভব নয়। আমরা ৫ লাখ করে দেব এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৫ মার্চ রাত ১টায় ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের চারজন শিক্ষার্থী গত ১০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্কয়ার গ্রুপের একটি টেক্সটাইল মিলে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের (ইন্টার্নি) জন্য ময়মনসিংহের ভালুকার মাস্টার বাড়ি এলাকার একটি ৬ তলা ভবনের ৩য় তলায় অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মো. তৌহিদুল ইসলাম। দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মার্চ বুধবার রাতে মো. শাহীন মিয়া, ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে মো. হাফিজুর রহমান এবং ৩০ মার্চ শুক্রবার সকালে দিপ্ত সরকারে মৃত্যু হয়।