কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান যেন ধ্বংসস্তুপ

ডেস্ক : কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত। ১,৬১৩ হেক্টর (৩,৯৯০ একর) আয়তনের উদ্যানটিকে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পর্যটন-সুবিধা উন্নয়নের উদ্দেশে একে জাতীয় উদ্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কুয়াকাটার পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্র ‘কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান’ যেন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। ঢেউয়ের ঝাপটায় সমুদ্রে বিলীন হতে যাচ্ছে মূল আকর্ষণ ঝাউবাগান।

গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ঝাউবাগানের ৭০ শতাংশ সমুদ্র গর্ভে হারিয়ে গেছে। সৈকতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ঝাউগাছ। কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানের মূল গেটসহ ঝাউবাগানের কিছু অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগামী জোয়ারে তা সমুদ্রে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত স্থাপনাও সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে গেছে। অযত্ন-অবহেলায় সৈকতে পড়ে আছে শতশত ঝাউগাছ। ঝাউবাগানের পানি নিষ্কাশনের পথে বালু ক্ষয়ে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। শিগগিরই এর একটা বিহীত না করলে অচিরেই সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যাবে কুয়াকাটার দর্শনীয় অনেক কিছু।

কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা বিল্লাল, মহিন, লামিয়া, শফিকসহ কয়েকজন জানান, আমরা এমন কুয়াকাটা দেখতে আসিনি। গাছগুলো এমনভাবে পড়ে আছে যে, হাঁটতেও সমস্যা হয়। সাগরকন্যা কুয়াকাটার এমন রূপ দেখে খুবই মর্মাহত হলাম। আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টির প্রতি নজর দিবেন।

বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই পড়ে থাকা গাছগুলো সরিয়ে ফেলা হবে |