কীভাবে হাইকোর্ট উঠিয়ে দেব: সিনহাকে আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের খসড়া নিয়ে প্রধান বিচারপতি যে মন্তব্য করেছেন এর জবাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।‘তাহলে হাইকোর্ট কেন রাখবেন, হাইকোর্ট উঠিয়ে দেন’ প্রধান বিচারপতির এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘হাইকোর্টতো বঙ্গবন্ধু করে দিয়ে গেছেন। আমরা কীভাবে উঠিয়ে দেব।’সোমবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির পরিচিতি সভা ও কর্মী সমাবেশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।রবিবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে খসড়া দেয় এতে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘তাহলে হাইকোর্ট কেন রাখবেন, হাইকোর্ট উঠিয়ে দেন।’এই প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওনারা মাসদার হোসেন কেসে ডিসিপ্লিনারি রুলসের কথা বলেছেন। কেউ কিন্তু ডিসিপ্লিনারি রুলস করেনি। আমি আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরে এ রুলসটা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে (হাইকোর্ট বিভাগের অধঃস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর উক্ত বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা থাকিবে) যে হাইকোর্ট, নট দি অ্যাপিলেট ডিভিশন তাদেরকে জানানোর জন্য এটা তাদের কাছে পাঠিয়ে ছিলাম।’মন্ত্রী বলেন, ‘তারা সংশোধন করে যেটা দিয়েছিল সেখানে দেখা গিয়েছে, আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে, ১১৬ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা সেটা তারা নিয়ে নিতে চায়। আমি কী করে সেটা দিই। আপনারা আমাকে রায় দিয়ে দেন, বলেন, আমি তো দিতে পারি না।’আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বললাম আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আসেন শেষ করে দিই। আমি একটা ড্রাফট পাঠিয়েছি। আপনারা কারেকশন করে দিয়েছেন। আমরা সেটার উপরে সেইটুকু হাত লাগিয়েছি। যেইখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে ১১৬ অনুচ্ছেদ মতে, সেইটা আমি শুধু বলছি না, এটা দেয়া যাবে না। ওটা ফেরত পাঠিয়েছে।’আনিসুল হক বলেন, ‘আমি তো এসে ওনাকে দিয়েছি। আমিতো এমন না পিয়ন বা আমার সচিবকে দিয়ে ওনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি নিজে এসে ওনাকে দিয়েছি। বলেছি আপনি পড়েন আপনি দেখেন। তারপরে যদি কোনো বক্তব্য থাকে আমাকে জানান। তারপরেও আলোচনা করবো। কিন্ত সেটি না করে উনি এজলাসে উঠে বলেন, যে হাইকোর্টটা তাহলে উঠিয়ে দেন। এটা কি অপ্রাসঙ্গিক নয়।’
প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি প্রধান বিচারপতি। আমার তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান আছে। আমি সেই সম্মান ও অধিকার রেখে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বলতে চাই, আমিতো হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট উঠানোর কথা বলি নাই। ডিসিপ্লিনারি রুলস দিয়ে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট উঠে না। আপনার এজলাসে বসে এগুলি বলারতো দরকার হয় না। আলাপ আলোচনাতো আমি করবোই। আমি কালকে যশোরে ছিলাম। ওনার কথা শুনে আমি ফোন করে বলেছি আমি আসছি বৃহস্পতিবারে বসবো। আমাদের সদিচ্ছা আছে।’১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।ওই বছরের ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানায়, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়। তবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষে বারবার সময় প্রার্থনা করা হয়। সবশেষ রবিবার খসড়া বিধিমালা আদালতে পেশ করে রাষ্ট্রপক্ষ।