কীভাবে সামলাবেন ডিভোর্সের মনঃকষ্ট

লাইফ স্টাইল ডেস্ক : ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ মানুষের জীবনে খুব বড় একটি ধাক্কা। এই বৈরী পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জও বটে। যে মানসিক যাতনা এই সময়ে গ্রাস করে তা খুব কঠিন বলে মনে করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। যার সাথে পুরো জীবন কাটাবেন বলে ঠিক করেছেন, যাকে বছরের পর বছর ভালোবেসেছেন, তিনি যদি জীবন থেকে আলাদা হয়ে যান মেনে নেয়া খুব কষ্টের। বিয়ে শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান হলো বিয়ে। তাই বিয়ে বিচ্ছেদের কষ্টটা বড় পাথর হয়ে মনের উপর চেপে বসে। এতে মন যেমন ভেঙে যায়, তেমনি শরীরেও এর প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন মনোচিকিৎসকরা-

নিজের যত্ন নিন সবার আগে

বিবাহ বিচ্ছেদে যখন সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার উপলব্ধি জাগে, তখন ভেঙে না পড়ে সবার আগে নিজের যত্ন নিন। নিজেকে বেশি সময় দিন। নইলে পেশাগত জীবনেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। ডিভোর্সের পর কঠিন সময় পার করতে হলে প্রতিদিন হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন। বিনোদনমূলক কিছু করুন। আপনার পছন্দের কফি শপ বা রেস্টুরেন্টে চলে যান। মন শান্ত রাখতে বিনোদনমূলক কিছু করতে সময় কাটান।

মাথা ঠান্ডা রাখুন

কী হয়েছে ভেবে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করলে চলবে না, আপনাকে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রতিদিন দৌড়ানো, ব্যায়াম করা, যোগচর্চা জরুরি। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর ও মন চাঙ্গা করে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তবে ব্যায়াম করার সময় আগের সম্পর্ক নিয়ে কোনো ধরণের নেতিবাচক চিন্তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে আপনাকে। সব কিছু ভুলে নতুন উদ্যমে এগুতে হবে। যদি বিয়ের আংটিটা আপনার পুরনো স্মৃতি বার বার মনে করিয়ে দেয়, তাহলে সেটি কোনো গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখুন। আপনার ফ্যামিলি ছবিগুলোতে যেখানে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ছবি আছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। এতে শান্তি খুঁজে পাবেন।

নিজের লক্ষ্য পুনরায় ঠিক করুন

নতুন করে আবার আপনার লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। এটা বিশেষ সুযোগ। বিয়ের দায়িত্বপূর্ণ সময়ে এমন কিছু কাজ হয়তো করার ইচ্ছে থাকলেও করতে পারেননি। আপনি এখন সেই কাজটি করার চেষ্টা করুন। লেখালেখির ইচ্ছে থাকলে লিখুন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। কাব্য চর্চার ইচ্ছে থাকলে চালিয়ে যান। এতে করে ভারাক্রান্ত মন হাল্কা হবে।

নতুন সম্পর্কের খোঁজ

কষ্টদায়ক অতীত আঁকড়ে ধরে রাখলে ক্ষতি আপনারই হবে। তাই বেঁচে থাকার নতুন উদ্যম নিয়ে নতুন সম্পর্কের খোঁজ করুন। তবে অবশ্যই কেমন চরিত্রের মানুষ আপনার সাথে মানানসই, সেটা আগে ভেবে নিন। পছন্দের মানুষদের একটা ছোট তালিকা তৈরি করুন মনে মনে। তাদের মাঝে কার স্বভাব আপনার জন্য মানানসই, তা সতর্কতার সাথে যাচাই করতে হবে। আগের বিয়েতে যেসব বিষয় আপনি উপেক্ষা করেছিলেন, সেগুলো এবার বিবেচনা করতে হবে, যেন আবারো কোনো ভুল বুঝাবুঝি তৈরি না হয়।

আর্থিক দিক বিবেচনা করতে হবে

ডিভোর্সের পর বিশেষ করে নারীদের অবশ্যই আর্থিক দিক বিবেচনা করতে হবে। আগের সংসারে হয়তো অনেক অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, খরচ করেছেন। এখন যেহেতু নতুন এক জীবন শুরু হলো, তাই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আর্থিক দিক থেকে নিরাপদ থাকবেন। অহেতুক অতি চাহিদা আপনাকে মানসিক দিক থেকে অশান্ত করতে পারবে না।

মনে রাখতে হবে দুঃসময়ে নিজেকেই হাল ধরতে হবে। বন্ধু, পরিচিতজন সান্ত্বনা দেবে ঠিক, তবে বৈরী পরিস্থিতির সাথে সত্যিকার লড়াইটা করে জয়ী হতে হবে আপনাকেই।