কাদের বেশি কথা বলছেন: মোশাররফ

নিজস্ব সংবাদদাতা : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বেশি কথা বলছেন বলে মনে করেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

‘এক সময় আমি তার নেতা ছিলাম’- এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা বলেন, ‘আমি তাকে (কাদের) বলব, এতো বেশি কথা বলেন; সত্য কথা বেড়িয়ে আসবে, তখন পালানোর পথ পাবেন না।’

‘মাঝে মাঝে তিনি বেশি কথা বলতে গিয়ে সত্য বলেন। তাদের নির্বাচন নিয়ে গোপন ষড়যন্ত্র স্বীকার করেছেন বেশি বলতে গিয়ে। নির্বাচন নিয়ে যত ষড়যন্ত্র করছেন তার একটাও বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।’

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মোশাররফ।

‘স্বৈরতন্ত্রের কবলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম নামের বিএনপিপন্থি সংগঠন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই দেশের ‘সব চেয়ে বড় স্বৈরাচারী’ বলে মন্তব্য করেন মোশাররফ।

বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকা মানেই স্বৈরাচারী। নিজেরা সভা সমাবেশ করবেন আর বিরোধী দলকে করতে দেবেন না এটা গণতান্ত্রিক আচরণ নয় এটাই স্বৈরতন্ত্র।’

‘তিনি (শেখ হাসিনা) হিটলারের ওপরে আছেন, জার্মানিকেও স্বৈরাচারী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে হবে।’

লেভেল প্লেইং ফিল্ড করতে পৃথিবীর কোথাও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির নেই-ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেরও জবাব দেন মোশাররফ। বলেন, এরশাদ পদত্যাগ করেছিলেন, ৯৬ সালে খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করে পদত্যাগ করেছিলেন, ২০০১ সালে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছিলেন লেভেল প্লেইং ফিল্ড করতে। আর ওবায়দুল কাদের সাহেব পৃথিবীর কোথাও পান না। দেশের তিনটি উদাহরণ দিলাম।’

খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে সরকার চক্রান্ত করেছিল দাবি করে মোশারফ বলেন, ‘আমরা তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছি শান্তিপুর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে।’

‘আমার নেত্রীকে জেলে নিয়েছে আমাদের সেটা জ্বালা, কিন্তু আমাদের থেকে ওবায়দুল কাদেরের বেশি জ্বালা। কারণ, আমরা একটা গাড়ি ভাঙলে একশ ভাঙার পরিকল্পনা ছিল তাদের।’

‘আমাদের শান্তিপুর্ণ আন্দোলনকে যদি আন্দোলনই মনে না করেন, তবে পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছেন কেন?’

মেশাররফ বলেন, ‘একটি দেশের তিনটি স্তম্ভ ধ্বংস, হলে সে দেশ স্বৈরতান্ত্রিক হয়। বিচার বিভাগ সরকার নিয়ন্ত্রণ করায় জনগণ বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে।’

‘আইন বিভাগ গায়ের জোরে ভোটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এই পার্লামেন্টে কোনো বিরোধী দল নেই, পৃথিবীর কোনো দেশেই এই রকম আশ্চর্যজনক পার্লামেন্ট নেই।’

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম, জাসাস নেত্রী শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা প্রমুখ।