‘কাদেরের বক্তব্যে বাড়ির বউরাও হাসে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে ‘বাড়ির বউরাও’ হাসে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির সমাবেশে জনতার উপচে পড়া ঢেউ দেখে আওয়ামী লীগ নেতা ‘পাগলের প্রলাপ’ বকছেন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের উদ্যেগে আয়োজিত যুবদল সাধারণ সম্পাদক হাবিব উন নবী সোহেল ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপির দুই নেতা এসব কথা বলেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের চেয়ে আওয়ামী লীগের রাস্তার ধারের জনসভাই বড়- ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন নজরুল ও দুলু।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘কাদের সাহেবের বক্তব্য শুনে বাড়ির বউয়েরাও হাসে। প্রধানমন্ত্রী আপনি নিশ্চই গতকাল একটা মেসেজ পেয়েছেন যে জনগণ আপনাদের সাথে নেই। জনগণ আমাদের সাথে একগ্রতা প্রকাশ করতেই আমাদের সম্মেলনে জড়ো হয়েছে।’

দুই মাসের মধ্যেই আওয়ামী লীগ বিদায় নেবে জানিয়ে নেতা-কর্মীদেরকে বিচলিত না হওত বলেন দুলু। বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি আওয়ামী লীগের নেতাদের ভিসা পাসপোর্ট রেডি। তারা পালানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।’

‘আমাদের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা এয়ারপোর্ট এবং বর্ডার আটকে দেবেন যেন তারা দেশ থেকে পালাতে না পারে। তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেই তবে তারা দেশ ছাড়তে পারবে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গতকাল কাদের সাহেব বলেছেন বিএনপি সমাবেশে জনগণের উপস্থিতি হতাশাজনক। অতি অল্প সময়ের নোটিশে এতো জনগণ হয়েছে সেটা দেখে তার হতাশ হওয়ারই কথা।’

‘আওয়ামী লীগ মসজিদের আলেম থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদের জোর ডেকে এনে সমাবেশ করে। কিন্তু বিএনপি কখনও এটা করে না। বিএনপির সাথে জনগণ আছে এবং থাকবে বিএনপি ভাড়া করে মানুষ এনে জনসভা করে না।’

‘কাদের সাহেব আপনারা যখন এটাই বিশ্বাস করেন যে বিএনপি জনসমর্থন কম তাহলে সংসদ ভেঙে দিয়ে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন জনগণ তো বিএনপির সাথে নাই তাহলে তো আপনারা খুব সহজেই জয়লাভ করতে পারবেন, তাহলে ভয় পান কেন?’

‘আওয়ামী লীগ যা করেছে তা দুঃখজনক’

এই মন্তব্য করে নজরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বৈরশাসকদের চারণভূমি হলো আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক খন্দকার মোসতাক হোসেন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে আরেক স্বৈরশাসক এরশাদ সাহেব বঙ্গবন্ধুর কন্যার দলের সাথে জোটভুক্ত।’

‘একটা বিষয় এখন স্পষ্ট যে স্বৈরশাসকদের পালনকর্তা হলো আওয়ামী লীগ। তারা জাতীয় বেঈমান তো তারাই।’

জনগণ এখন সরকারের বিরুদ্ধে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘যখন সরকারের বিপক্ষে যায় তখন কোন সরকারই ক্ষমতায় টিকতে পারে না, যেমন স্বৈরাচার এরশাদ টিকতে পারেনি।’

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সবার আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলেরও ঘোষণা দেন নজরুল ইসলাম খান। আইনটিকে ‘বাকস্বাধীনতাবিরোধী কালো আইন’ও বলেন তিনি।