কাদেরের জবানবন্দি : নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলাটির অন্যতম আসামি আব্দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ফেনীর বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিনের আদালতে আবদুল কাদেরকে হাজির করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটিতে মোট চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

হাফেজ আবদুল কাদের আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডে নিজের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার দিন তিনি হত্যাকারীদের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার গেট পাহারায় ছিলেন এবং পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম। নিজের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তার রুমেই হয়েছে পরিককল্পনা।

এই মামলার এজাহারে থাকা আট আসামির সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার মোট ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জনকে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ‘অনুগত’ আবদুল কাদেরকে বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার ছাপড়া মসজিদের পাশে বড় ভাই রহিমের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবদুল কাদের সোনাগাজী আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবদুল কাদের পঞ্চম। সে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। আবদুল কাদের গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পরদিন মালামাল নিয়ে হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যান।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় মুখোশ পরা চার/পাঁচজন নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।