করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব ডিসিসিআইয়ের

ঢাকা, ৬ মে, ২০১৮ : দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, আগামী তিন বছরে করপোরেট করহার পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা যেতে পারে।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিল ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে চেম্বার নেতৃবৃন্দ এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি মো. আবুল কাসেম খান ও সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কাশেম খান বলেন, বাংলাদেশে করপোরেট করহার অনেক বেশি। করপোরেট কর কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ কমানো দরকার। সেই সঙ্গে পরবর্তী দুই অর্থ বছরে আরো পাঁচ শতাংশ কমানোর প্রয়োজন। এতে ব্যবসায়ীরা বেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। বিনিয়োগ বাড়লে দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন,আগামী বাজেটে করমুক্ত ব্যক্তি আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা দরকার। বর্তমানে আড়াই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় হলে ১৫ শতাংশ, পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ছয় থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং ৩০ লাখের বেশি হলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালে মানুষের জীবনযাত্রা আরো সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দ আগামী বাজেটে অবকাঠামোগত খাতের উন্নয়নে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। একইসাথে বাজেটে ট্যাক্স কার্ড হোল্ডাদের প্রদত্ত সুবিধাসমূহ অবহিত করতে একটি বিশেষ সেল গঠন করার প্রস্তাবনা দেন।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম বন্দরকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো, যানজট নিরসন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন থেকে আট লেনে উন্নীত করা জরুরী।
এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অবৈধ টাকা বৈধ করার সুযোগ ডিসিসিআই সমর্থন করে না। তবে যে টাকা বৈধভাবে উপার্জন করা হয়েছে, কিন্তু ট্যাক্সফাইল করা হয়নি-সেগুলোকে ট্যাক্সের আওতায় আনার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি এলএনজি গ্যাসের দাম যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের দাবি করেন।