কতজন ধর্ষিত হলে বিচার ব্যবস্থার ঘুম ভাংবে

মার্শাল রাসেল: দিনাজপুরের ইয়াসমিন থেকে শুরু করে কালকের তনু ধর্ষণ এবং হত্যা, মাঝখানে আরও অসংখ্যা নারী ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা আমাদের দেশে হ্যাঁ আমরা যে দেশ এবং দেশের মানুষ নিয়ে গর্ব করি, এই সোনার বাংলাতে ঘটেছে। আমাদের দেশের কতিপয় সোনার ছেলেদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েই প্রাণ দিয়েছে আমাদেরই কারো না কারো বোন কিংবা প্রেমিকা কিংবা স্ত্রী।
আর আমাদের রাষ্ট্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থা সেই মান্ধাতার আমলের মতই কচ্ছপ গতিতে চলতে চলতে বিচারের ইতিহাস নিজেই ইতিহাসে পরিণত হতে হতে এক সময় গোল্ড ফিশ মেমোরির ধারক এবং বাহক বাঙ্গালীরা ভুলে যায়, মুক্ত বাতাসে ঘুরে ফিরে বুক ফুলিয়ে চলতে পারা অপরাধীরা আবার কোন তনু কিংবা ইয়াসমিন কিংবা সিমি কিংবা …………… নামের লম্বা সারি হয়ে যায়, পত্রিকার পাতায় কখনো বড় বড় হরফে কিংবা কখনো নিতান্তই ভিতরের পাতার ক্ষুদ্র এক কোণে সামান্য খবর হয়ে থাকে।

আর আমরা আমজনতা কয়েকদিন প্রতিবাদে মুখরিত শ্লোগান দিতে দিতে ভুলে যাই কোন এক নারী সন্ধ্যায় টিউশানি থেকে ফেরার পথে সুরক্ষতি সেনানিবাস এলাকায় কিংবা তাঁর আশে পাশে ধর্ষিত হয়েও ক্ষান্ত হয়না বরং নারী জন্মের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় জীবনের বিনিময়ে। আমরা খুব গর্ব করে বলতে পারি নারী উন্নয়নের কথা নারীর ক্ষমতায়নের কথা কিন্তু নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী তৈরি করতে পারিনা। আমি জানি এভাবে একজন করে নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে কখনো লাঞ্ছনায় আত্মহত্যা করবে কিংবা তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হবে, আর আমাদের মানবাধিকার সংস্থা, নারীবাদী আন্দোলনের সফল নেত্রীবৃন্দ নারীর ধর্ষিত বিকৃত দেহ নিয়ে পুঁজিবাদীর সেবাদাসি হয়ে কয়েক দিনের শ্লোগান তুলে, সঙ্গম শেষে অরগ্যাজমের মত চরম পুলক নিয়ে আয়েশে ঘুমিয়ে পড়বে আন্দোলন থেকে অর্জিত টাকায় বিলাস ব্যাসনে।
আর রাষ্ট্র তখন সহস্রাব্দ উন্নয়নে নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ভণ্ডামি দিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে নিজের ইমেজ বৃদ্ধি করতে ব্যস্ত থাকবে।
আমি জানিনা ঠিক কতজন নারী ধর্ষণ কিংবা নির্যাতন হলে আমাদের বিচার ব্যবস্থার ঘুম ভাংবে অপরাধিদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কবে দেশের সব নারী কে নিজেদের মা কিংবা বোন কিংবা স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা ভেবে পরম মমতায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত সঠিক এবং দ্রুত করে ন্যায় বিচার করে অপরাধীদেড় শাস্তি দিতে সহায়তা করবে। আর কতজন নারী যারা আমাদের ই কারো মা কারো বোন কিংবা স্ত্রী প্রেমিকা ধর্ষিত হলে আমাদের এই রাষ্ট্র, তিরিশ লক্ষ শহীদ আর তিন লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন দেশ নিজেকেও ধর্ষিত মনে করবে?? আর কত মা বাবার বুক খালি হলে আমাদের বিবেক জাগবে। আমাদের সমাজে তনু ইয়াসমিন সিমি নামক নারীরাই কি কেবল ধর্ষিত হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন, সেই সাথে কি আমি আপনি আমাদের বিবেক মানবিকতাও কি ধর্ষিত হচ্ছেনা।