কণাকে এখনও আদর করেন মোশাররফ করিম

বিনোদন ডেস্ক : সম্পর্কে তারা ছাত্রী-শিক্ষক। একজন সঙ্গীত জগতের এই সময়ের সুপরিচিত মুখ দিলশাদ নাহার কণা। আরেকজন নাট্য জগতের ওয়ান অ্যান্ড ওয়ানলি, ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, বোল্ড অ্যান্ড বিউটিফুল, লেটেস্ট, ফিটেস্ট, ব্লুটুথ বয় মোশাররফ করিম।

মোশাররফ করিমের নামের আগে হাস্যরসাত্মক ওই বিশেষণগুলো জুড়ে দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ‘জমজ’ সিরিজের প্রতিটা নাটকেই নিজেকে তিনি এই বিশেষণগুলো দিয়েই পরিচয় করিয়ে দেন। তবে কণ্ঠশিল্পী কণার সঙ্গে তার ছাত্রী-শিক্ষকের পরিচয়টা কিন্তু কোনো নাটক বা সিনেমার গল্প নয়, একেবারেই বাস্তব।

তবে খোলাসা করেই বলি, ক্লাস নাইন থেকে টানা তিন বছর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার ই হক কোচিং সেন্টারে পড়েছেন কণা। সে কোচিংয়েই ইংরেজি ও বাংলা ক্লাস নিতেন মোশাররফ করিম। তখনকার সেই শিক্ষক এবং ছাত্রী এখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিকেতনের অডিও পিপল স্টুডিওতে হঠাৎই দেখা হয়ে যায় এই ছাত্রী-শিক্ষকের। একটি গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলেন কণা। মোশাররফ করিম গিয়েছিলেন নাটকের ডাবিং করতে। ব্যাস, অনেকদিন পর ছাত্রীকে পেয়েই গল্প জুড়ে দেন শিক্ষক মোশাররফ করিম। তোলেন সেলফিও।

গতকাল সেই সেলফিটাই নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কণা। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘স্যারের শরীরটা ভালো না। এই শরীরেই ডাবিং করতে এসেছিলেন। আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছেন। আমি ছবি তুলতে গেলে বলেন, ‘চলো, তোমার সঙ্গে ছবি তুলে হাসির অভিনয় করি। ’ আমাকে এখনও অনেক আদর করেন। দেখা হলে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। মাথায় হাত দিয়ে বলেন, ‘কণা, বড় হয়ে গেছ না!’ আমি যে বড় হয়ে গেছি, সবাই যে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে আসে, তিনি তা মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখেন। আমার প্রতি তাঁর অনেক দোয়া আছে। ”

কণা আরও লেখেন, ‘আপনারা বলেন মোশাররফ করিম। আমি বলি শামীম ভাইয়া। আপনারা তাঁকে চেনেন জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে, আর তিনি আমার প্রিয় টিচার। সিলেবাসের বাইরেও জীবনের অনেক শিক্ষাই পেয়েছি তাঁর কাছে। জানাই কৃতজ্ঞতা। ’

মাত্র চার বছর বয়সেই গানের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে কনার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে জীবনের প্রথম কোনো গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। তবে নিজের প্রথম একক অ্যালবাম ‘জ্যামিতিক ভালোবাসা’র টাইটেল গানটির মাধ্যমেই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন সুকণ্ঠী এই গায়িকা। এরপর একে একে আরও দুটি একক অ্যালবামের মাধ্যমে বেশ কিছু হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। এখন নিযমিতই গান করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের গানে।