কক্সবাজার মহেশখালীর চেহারা পাল্টে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে দেড় হাজার একর জমিতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই এলাকাটি একটি শহরে পরিণত হবে।

রবিবার গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ৫০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে ২০২৪ সালে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মহেশখালীসহ প্রত্যেকটা দ্বীপ অঞ্চল, কক্সবাজার জেলা এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে ঘিরে মহেশখালীতে বিদ্যুতের নতুন হাব তৈরি করতে চায় সরকার। এখানেই হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে কয়লা খালাস ও সংরক্ষণের জন্যও ব্যবস্থা থাকবে। রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোও গড়ে উঠছে।

স্থানীয়দের পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে সেখানে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়িঘর তৈরি করে দেয়া ছাড়াও তাদেরকে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গোটা দ্বীপটাই অন্যভাবে গড়ে উঠবে। সেখানে খুব ভালো পর্যটনের ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে।’

‘আজকে এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, এলএনজি টার্মিনাল করছি, এখানে ডিপ সি পোর্টও গড়ে উঠবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, গোটা কক্সবাজার জেলায় মোট ৩৯টির প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার। তার মধ্যে মহেশখালীকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর কেউ কেউ অর্থ পাননি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে কিছু সমস্যা ঘটেছে, আমরা লক্ষ্য রাখছি এবং কেউ কোনো বঞ্চিত হবেন না।’

এ সময় মাতারবাড়ি থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অধিগ্রহণ করা জমির একজন মালিক রুহুল আমিন যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আপনি চাইলে আরও জায়গা জমি দেব, কিন্তু আমরা বাপ-দাদাদের জমিতে বেঁচে থাকতে চাই। সর্বহারা মানুষদের কর্মসংস্থানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি, ৪৫টি পরিবার ঘরহারা হয়েছেন, অনুরোধ করছি তাদের পুনর্বাসনের জন্যও।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা পেশা হারাবেন না। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, যারা জমি দিয়েছেন কেউ কিছু হারাবেন না, আপনাদের জীবন-জীবিকার নতুন পথ উন্মুক্ত হলো। সেখানে প্রজেক্টে চাকরি রিজার্ভ থাকবে।’

‘আমরা ঘর করে দেব, স্কুল কলেজ গড়ে তুলব, সেখানে নতুন শহর গড়ে উঠবে। আপনাদের জীবন মান আরও উন্নত হবে। যারা জমি দিয়েছেন, তাদেরকে ঘরবাড়িও করে দেবে জাপান সরকার।’

মাতারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তানজিল আফরিন এ সময় তার স্কুলকে জাতীয়করণের দাবি জানায়।

তানজিলা বলে, ‘যেহেতু মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, তো এখানে মানুষের পেশাগত পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা চাই এখানে একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হোক।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল করে দিচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয় তো সব জায়গায় হবে না। কক্সবাজারে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, আমরা অনুমোদন করে দিয়েছি। প্রত্যেকটা উপজেলায় ট্রেইনিং স্কুল, ট্রেইনিং সেন্টার আমরা করে দেবো।’

‘এখানে (মহেশখালী) তো আরও বিশেষভাবে করা হবে। এখানে হাতে কলমে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। এখানে বহুমুখী প্রকল্প হবে।’

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ছিলেন বাংলাদেশে জাপানি রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইউজুমি, জাইকার প্রধান তাকাতোশি নিশিকাতা। আর গণভবনে ছিলেন জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত কেনতেরো সেনোউরা বক্তব্য দেন।

এর আগে বিদ্যুৎ উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে এবং বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন কিছু করতে গেলেই নানা বাধা আসে, নানা রকম ফর্মুলা এসে যায়, অনেক তাত্ত্বিক গজিয়ে যায়, নানা রকমের কথা বলে।’

‘কেউ কেউ হতাশায় ভোগে। নতুন কিছু করতে গেলেই গেল গেল সব গেল বলে হতাশা ছড়াতে চায়। কিন্তু আমি হতাশার লোক না, আমি সব সময় আশাবাদী এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্নত জীবন চাই।’