কওমির মেধাবীরা একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : কওমি মাদ্রাসার মেধাবীরা একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। বলেছেন, আল্লামা মাসঊদের নেতৃত্বে সবাইকে একত্রে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসার আহ্বান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাতে স্বীকৃতি দেয়াটা সম্ভব এবং সহজ হয়।

আল্লামা মাসঊদের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ গড়ার সেই কাজটি আল্লামা মাসঊদ করছেন। যে মেধাবীদের আজকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে তারাই আমাদের দেশের নেতৃত্ব দেবে তাদেরকে উৎসাহিত করছেন।

তাবলিগের মতবিরোধ নিয়ে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টঙ্গীতে লাখ লাখ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে বিরোধ তৈরি করা হলো। কারা করে এসব? আমরা দিনের পর দিন মিটিং করে এর আগেও সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

তাবলিগ জামাতকে বাংলাদেশের গর্বের বিষয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাবলিগ জামাতের কাফেলা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের দেশে আসছে। দীনের কাজ তারা আঞ্জাম দিচ্ছে। সব কিছুর উদাহরণ আজ হয়ে গেছে বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাবলিগ জামাত ও আলেম উলামাকে সঠিক পথে থেকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের একপথে চলতে হবে। একমতে চলতে হবে। তাহলেই যে ইসলাম আমরা ধারণ করি সে ইসলামকে আমরা জয়ী করতে পারবো। ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে বিশ্বে বিবেচিত করতে পারবো।

শনিবার বিকালে রাজধানীর খিলগাঁও জামিআ ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে জাতীয় দীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড তথা জাতীয় বেফাক আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেনে প্রধান অতিথির আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংখ্যালঘু বোর্ডগুলোকে আইনত শক্তিশালী করার জন্য আহ্বান জানিয়ে সভাপতির আলোচনায় জাতীয় বেফাকের সভাপতি আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, বেফাকুল মাদারিস ছাড়া বাকি পাঁচ বোর্ডের সঙ্গে সংখ্যালঘুর আচরণ করা হচ্ছে। আমাদের এই পাঁচ বোর্ডকে আইনত শক্তিশালী করা উচিত।

পাঁচ বোর্ডের সদস্যরা এখানে আছে উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমাদের এখানে মেধার চাষ হচ্ছে। হায়াতুল উলইয়্যার কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সর্বপ্রথম স্থান অধিকার করেছে আমাদের বোর্ডের শিক্ষার্থী। আমরা পুরস্কার হিসেবে হজের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন।

পুরস্কার ব্যবস্থা না করায় তিনি হায়্যাতুল উলইয়্যার নেতৃবৃন্দের সমালোচনাও করেন তিনি। তিনি বলেন, কী কারণে যে এখনো এরকম পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়নি তা জানি না। মেধাবীকে মূল্যায়ন করা উচিত।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার সচিব মো. আলমগীর বলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি এখনো একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও মাওলানা হুসাইনুল বান্না উপস্থাপনায় বক্তব্য দেন, ড. আওলাদ হোসেন, মাওলানা আবু তাহের নদভী, মুফতি এনামুল হক, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা শামসুল হুদা খান, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মুফতি আবদুল কাইয়ুম খান, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মুফতি তাজুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা মুমতাজুল করীম, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা মুজাফফর হোসাইন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা মুসলেহউদ্দীন, মুফতি আবুল কাসেম, মাওলানা আবদুল বাতেন, মুফতি আবদুর রহীম, মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, মাওলানা আবদুল জলিল, মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, মুফতি জসীম উদ্দীন, কারী শামসুল হক প্রমুখ।