ওয়াসার পানি পরীক্ষায় বিশেষজ্ঞ কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়ার তথ্য পেয়ে পানি পরীক্ষা করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআরবি, ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরপডিসি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদ এবং মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সাইন্স বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন এই কমিটিতে। এই কমিটির প্রতিবেদন দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদেনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেছে আদালত। এতে ওয়াসার নিরাপদ পানি সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিরাপদ পানি সরবরাহে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা পাইপলাইনে করে যে পানি সরবরাহ করে তার মান নিয়ে বরাবর প্রশ্ন আছে। এই পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হলেও পাইপলাইনের ভাঙা বা ছিদ্র দিয়ে ময়লা আবর্জনা ঢুকে বলে তথ্য রয়েছে। আর পানির বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় ফোটানো ছাড়া পান করে না নগরবাসী।

এই সমস্যা অস্বীকার করে না সরকারও। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান জানিয়েছেন, তারা পানি সরবরাহ লাইন পাল্টে ফেলার প্রকল্প শুরু করেছেন।

বর্তমানে একটি একটি কেন্দ্রীয় সরবরাহ পদ্ধতি ছিল জানিয়ে ওয়াসা প্রধান জানান, সেটিকে পরিবর্তন করে আমরা ১৬০টি সরবরাহ সিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি সিস্টেমের অধীনে দুই থেকে পাঁচ হাজার বাড়িঘরে পানি সরবরাহ করা হবে।

রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহকৃত ওয়াসার পানিতে ব্যাকটেরিয়াসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করি।’