এমবাপ্পে একাই শেষ করে দিলেন আর্জেন্টিনাকে

ক্রীড়া ডেস্ক : কাইলিয়ান এমবাপ্পে। বয়স মাত্র ১৯। ৩০ জুন তাঁর বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হওয়ার দিন। আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই শেষ করে দিলেন এমবাপ্পে। করেছেন জোড়া গোল। প্রথম যে গোলটি পেয়েছে ফ্রান্স, সেটাও তাঁর কল্যাণে। ভাগ্য ভালো থাকলে নামের পাশে অরো গোটা দুয়েক গোল শোভা পেতে পারত। তরুণ এ স্ট্রাইকারের অসাধারণ নৈপূণ্যে নাটক ও উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স।
শেষ হাসি ফ্রান্সের, তবে ম্যাচের পরতে পরতে ছিল নাটকীয়তা। দারুণ খেলছে আর্জেন্টিনাও। ভাগ্য ভালো থাকলে জিততে পারত আর্জেন্টিনাও। কিন্তু সময় এখন ফ্রান্সের। এমবাপ্পের। উত্তেজনার ম্যাচে কখনও ফ্রান্স লিড নিয়েছে, আবারও কখনো বা আর্জেন্টিনা। কিন্তু সাত গোলের নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সেরই।

কাজান এরেনায় ম্যাচটি শুরু থেকেই দারুণ জমে ওঠে। সপ্তম মিনিটে এমবাপ্পেকে ফাউল করেন মাশ্চেরানো। পোস্টের ২৫ গজ দূরে ফ্রি কিক পায় ফ্রান্স। দুর্দান্ত শট নিয়েছিলেন গ্রিজম্যান। এ যাত্রায় অল্পের জন্য রক্ষায় পায় আর্জেন্টিনা। গ্রিজম্যানের অত্যন্ত দ্রুতগতির শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
১১তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডুবিয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ১-০তে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। গোলদাতা গ্রিজম্যান। তবে আসল কৃতিত্ব এমবাপ্পের। দলের সেন্টার স্ট্রাইকারের দায়িত্ব পালন করতে নেমে শুরুতেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে ভয় পাইযে দেন এমবাপ্পে। বল নিয়ে ছুটেন রকেট গতিতে।

১১তম মিনিটে বল নিয়ে আর্জেন্টিাইন ডি বক্সের ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন দুর্দান্ত গতিতে। তাকে পেছন থেকে বাজেভাবে ফাউল করেন মার্কোস রোহো। এরপর ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে লিড এনে দেন গ্রিজম্যান।

প্রথম গোল করার ক্ষেত্রে দারুণ একটি রেকর্ড আছে ফ্রান্সের। বিশ্বকাপে যে ১৮ ম্যাচে আগে গোল করেছে তারা, তার একটিও হারেনি ফ্রান্স। এর মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছে তারা, ড্র হয়েছে দুই ম্যাচ।
তবে এই রেকর্ড আজ টিকবে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে। কারণ ৪১তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন ডি মারিয়া, সে এক দুর্দান্ত শটে।তবে ভাগ্য ভালো বলতে হবে আর্জেন্টিনার। ফরাসি গোলকিপার হয়তো একটু অপ্রস্তুত ছিলেন। বানেগার কাছ থেকে পাস পেয়ে ৩০ গজ দূর থেকে দারুণ শটে মারিয়া পরাজিত করেন ফরাসি গোলকিপারকে। ১-১ সমতা। উত্তেজনাকর প্রথমার্ধের খেলা এই ব্যবধানেই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে কে কাকে ছাড়িয়ে যেতে পরে, শুরু হয় সেই লড়াই। এক্ষেত্রে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮তম মিনিটে মেসির কল্যাণে গোল করে দলকে লিড এনে দেন মের্কাদো। ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।গোলমুখে আাগুয়ান মের্কাদোর ছোঁয়ায় জাল খুঁজে পায় বলটি।
তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ৫৭ মিনিটে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান বেনজামিন পাভার্ড। লুকাস হার্নান্দেজে ক্রস থেকে গোলটি করেন পাভার্ড। ৬৪ মিনিটের নায়ক এমবাপ্পে। তিনি ম্যাচের আসল নায়কও বটে। তার কল্যাণেই প্রথম গোলটি পেয়েছিল ফ্রান্স। এবার নিজের নামের পাশে যোগ করলেন মূল্যবান গোলটি। তরুণ এ স্ট্রাইকারের গোলেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

চার মিনিট পর আবার সেই এমবাপ্পে ঝড়। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার মাথা ব্যথার কারণ ছিলেন এই স্ট্রাইকার। তাকে রোখা গেল না এবারও। ৬৮ মিনিটে দারুণ এক গোল করে ফ্রান্সকে ৪-২তে এগিয়ে দদেন এমবাপ্পে। অলিভারের কাছ থেকে বল পেয়ে আলতো করে বল জালে জড়িয়ে দেন এ টিনেজার।

৪-২ গোলে পড়া আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে ওঠে গোলের জন্য। গোল তারা পেলো, কিন্তু যোগ করা টাইমে। ততক্ষণে অরেক দেরি হয়ে গেছে। মেসির ক্রস থেকে হেডে গোলটি করেন আগুয়েরো। শেষমেশ ৪-৩ গোলের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

Inline
Inline