এবার দোয়া করবে জামায়াত ৭১’এর ‘শত্রু’ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে জামায়াতে ইসলামী অস্ত্র ধরেছিল, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এবার দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দুই দিন আগে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয় এই আহ্বান জানায় স্বাধীনতাবিরোধী দলটি। একাত্তরে যাদেরকে দমন ও হত্যার জন্য জামায়াত সে সময় নানা বাহিনী গড়ে তুলেছিলে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বীর সেনানীও বলেছে তারা।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমানের নামে আসা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, ‘যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সমগ্র জাতির অবদানের কথা আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ও দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালি নিধনে ভারী অস্ত্রসহ ঝাঁপিয়ে পড়লে জামায়াত নিজ দেশবাসীর বিপক্ষে অস্ত্র নেয়। সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযম রেডিও ভাষণে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দেন। এরপর গোলাম আযম পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাঙালি নিধনে নানা শলাপরামর্শ দেন।

যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ দেশীয় দোসরদের দিয়ে যে রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠা করে তা ছিল মূলত জামায়াতের নেতাকর্মীদের দিয়ে। জামায়াত নেতা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ প্রথম খুলনায় এই বাহিনী গঠন করেন। পরে সারা দেশেই তৈরি হয় ইউনিট।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে এই আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ বছর কয়েক আগে মারা গেছেন।

এ ছাড়া জামায়াতের সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ গড়ে তোলে খুনি বাহিনী আলবদর। এই বাহিনীর শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও মীর কাসেম আলী বর্তমান সরকারের আমলে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলার পর দল হিসেবে তার বিচারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে এই বিচার এখনও শুরু হয়নি।

সেই জামায়াতই এবার বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালনে বিভিন্ন শাখার নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির তার বিবৃতিতে বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘জাতি এমন এক সময় মহান বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছে যখন দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাধীনতার মূল অর্জন গণতন্ত্রকে হারিয়ে সমাজ আজ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’