এতই যখন সাহস নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি আওয়ামী লীগকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সাহস দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।সোমবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রতি এ আহ্বান জানান রিজভী। গতকাল রবিবার ওবায়দুল কাদের বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘রাজনীতি করতে সাহস লাগে, মামলা মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু বিএনপি নেতাদের সেই সাহস নেই।’সড়কমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাব দিয়ে রিজভী বলেন, ‘তাহলে কাদের সাহেব, আপনাদের যখন এত সাহস, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। আপনারাই তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন, বীভৎস তাণ্ডব চালিয়ে হরতাল-অবরোধ করে গাড়ি পুড়িয়েছিলেন, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছিলেন।’ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নিজেদের মর্জি ও প্রয়োজন মাফিক সংবিধান বদল বা সংশোধন করেন। কিন্তু এখন বিএনপিকে সংবিধানের দোহায় দেন। সংবিধানে সব দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে, কিন্তু সভা-সমাবেশের সেই অধিকার তো আপনারা বাকশালি খাঁচায় বন্দী করে রেখেছেন।’ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘ভয়াবহ দুর্নীতি, দুঃশাসন আর নির্যাতন নিপীড়নের কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আপনারা শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। মাইনাস টু তত্ত্ব মেনে নিয়ে আপনার নেত্রী বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন। এটি কোন ধরনের সাহসের নমুনা?’এ সময় রিজভী সীমান্ত হত্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে যখন প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তখন তো কোনো সাহসী প্রতিবাদ জনগণ দেখেনি। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে নিজেদের দেশের মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে শঙ্কার ছায়া বিস্তার করে দেশকে বিরোধী দলশূন্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।’প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা আগে থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে তার আত্মা বিক্রি করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন রিজভী। সিইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করছেন। সুতরাং আপনার অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মুনির হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।