এই বর্ষায় খিচুড়ি

ফিচার ডেস্ক : ঝরঝর বাদল দিনে খিচুড়ির স্বাদ নিতে ইচ্ছে করে অনেকেরই। খুব সাধারণ উপকরণে করা যায় এই খাবার। আবার বিশেষ উপকরণ ব্যবহার করা যায়। এখানে তিন রকমের খিচুড়ির রেসিপি দিয়েছেন রান্নাপ্রেমী বীথি জগলুল

বাসি ভাতের খিচুড়ি

উপকরণ
ভাত: দুইজনের পরিমাণ
মুগ ও মসুর ডাল: আধা কাপ
ছোলা ও মাষকলাইয়ের ডাল: চারভাগের এক কাপ
সবজি ও শিমের দানা: আধা কাপ
মটরশুঁটি: আধা কাপ
গাজর: ১টি
বাঁধাকপি: ১ কাপ
পেঁয়াজ: ৩টি
আদা বাটা: ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা: ২ টেবিল চামচ
হলুদ: ১ চা চামচ
মরিচ: ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া: ১ চা চামচ
আস্ত গরম মশলা: প্রয়োজনমতো
কাঁচামরিচ: ৬টি
সাদা তেল: ২ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদমতো
খেয়াল রাখুন
আপনি যদি বেঁচে যাওয়া অথবা বাসি মাংস অথবা অন্য যেকোনো তরকারি দিতে চান তা হলে হলুদ, মরিচের গুঁড়া এবং আদা ও রসুন বাটা কমিয়ে দেবেন।
ফোড়নের জন্য
পেঁয়াজ কুচি: চারভাগের এক কাপ
রসুন: থেঁতো করা আস্ত ১টি
আস্ত জিরা: ১ চা চামচ
শুকনা মরিচ: ৫টি
তেজপাতা: ৩টি
সরিষার তেল: পরিমাণমতো

প্রণালি
ডাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন। ছোলার ডাল আলাদা করে ভেজাবেন। ডাল ফুলে গেলে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার হাঁড়িতে তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে তাতে সব বাটা ও গুঁড়া মশলা কষিয়ে নিন। তারপর ছোলার ডাল কষিয়ে এমনভাবে পানি দিন যেন ছোলার ডাল প্রায় সিদ্ধ হয়ে যায়। পানি শুকিয়ে গেলে সবজি মিশিয়ে গাজর ছাড়া অন্য সবজিগুলো কষিয়ে নিন। সব সবজি প্রায় সিদ্ধ হয়ে গেলে অন্যান্য ডাল মিশিয়ে আবার কষাতে থাকুন। ডালের রং পরিবর্তন হয়ে এলে রান্না করা ভাত মিশিয়ে পরিমাণমতো পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে কুচিগাজর ও কাঁচামরিচ মিশিয়ে নিন। এই সময়ে আগের বেঁচে যাওয়া মুরগির মাংস রান্না, সবজির তরকারি, আচার বা তেঁতুল মিশিয়ে নিতে পারেন। ডাল সিদ্ধ হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। অন্য একটি প্যানে একটু বেশি পরিমাণ সরিষার তেল গরম করে আস্ত জিরা, তেজপাতা ও শুকনা মরিচ ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুন বাদামি করে ভেজে খিচুড়ির মধ্যে ঢেলে মিশিয়ে নিন। উপরে গরম মশলা গুঁড়া ছড়িয়ে আবার ঢেকে রাখুন। গরম গরম পরিবেশন করুন। ওটস খিচুড়ি

উপকরণ
ওটস: ১ কাপ
মুগডাল: চারভাগের এক কাপ
পেঁয়াজ: আধা কাপ
সবজি: এক কাপ (কয়েক রকম সবজি)
আদা বাটা: ১ চা চামচ
রসুন বাটা: ১ চা চামচ
হলুদ, মরিচ আর জিরা গুঁড়া: আধা চা চামচ
তেজপাতা: ১টি
এলাচ: ৩টি
দারুচিনি: ১ টুকরা
লবঙ্গ: ৩টি
কাঁচামরিচ ফালি: ২টি
ধনেপাতা কুচি: ৩ টেবিল চামচ
অলিভ অয়েল: ৩ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদমতো
গরম পানি: ২ কাপ
লেবু: ১টি

প্রণালি
প্রথমে শুকনা প্যানে ওটস হালকা করে টেলে রাখুন। ডাল ভিজিয়ে রাখুন। ফুলে উঠলে পানি ঝরিয়ে রাখুন। এবার হাঁড়িতে তেল গরম করে তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও আস্ত জিরা ফোড়ন দিয়ে, আদা-রসুন বাটা ও অন্য মশলাগুলোর সঙ্গে কষিয়ে নিন। অল্প পানি দিয়ে ডালটা যোগ করে কষিয়ে আবার একটু পানি দিয়ে ঢেকে দিন। ডাল সিদ্ধ হয়ে গেলে সবজি ও পেঁয়াজ দিয়ে কষিয়ে নিন। মিনিটখানেক কষিয়ে অল্প পানি দিয়ে সবজি সিদ্ধ করুন। পানি শুকিয়ে এলে ওটস মিশিয়ে দেবেন। আরও একটু পানি দিয়ে মিশিয়ে নিন। আঁচ বাড়িয়ে দিন। পানি শুকিয়ে আপনার পছন্দ মতো ঘন হলে ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ ফালি মিশিয়ে নামিয়ে ফেলুন। উপর দিয়ে লেবুর রস ছড়িয়ে দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি

উপকরণ
চাল: দেড় কাপ
মুগ ও মসুর ডাল: আধাকাপ
ছোলা ও মাষকলাইয়ের ডাল: চারভাগের এক কাপ
সবজি: দেড় কাপ (পটল, চিচিঙ্গা, বরবটি, পেঁপে ছোট টুকরা করে কাটা)
পেঁয়াজ কুচি: আধা কাপ
আদা ও রসুন বাটা: ২ টেবিল চামচ
হলুদ, মরিচ ও জিরা গুঁড়া : ১ চা চামচ
আস্ত গরম মশলা: প্রয়োজনমতো
তেল: ৩ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদমতো
ফোড়নের জন্য
পেঁয়াজ কুচি: চারভাগের এক কাপ
রসুন: থেঁতো করা আস্ত ১টি
আস্ত জিরা: ১ চা চামচ
শুকনা মরিচ: ৫টি
তেজপাতা: ৩টি
সরিষার তেল: পরিমাণমতো
প্রণালি
চাল ও ডালগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল ফুলে গেলে পানি ঝরিয়ে নিন। হাঁড়িতে তেল গরম করে অল্প পেঁয়াজ ভেজে তাতে সব বাটা ও গুঁড়া মশলা দিয়ে কষিয়ে চাল-ডালের মিশ্রণ ও সবজি মিশিয়ে পরিমাণমতো পানি দিন। কেমন নরম খিচুড়ি করতে চান সেটার উপর পানির পরিমাণ নির্ভর করে। চাল-ডাল সিদ্ধ হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। অন্য একটি প্যানে সরিষার তেল গরম করে আস্ত জিরা ও শুকনা মরিচ ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ এবং রসুন বাদামি করে ভেজে খিচুড়ির মধ্যে ঢেলে দিন। ডিম ভাজা অথবা মুরগি বা গরুর কারি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।