উল্কা পতনে সৃষ্টি রাজস্থানের আগ্নেয়গহ্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উল্কা পতনের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিলো ভারতের রাজস্থানের রামগড় জেলার আগ্নেয়গহ্বর। দীর্ঘদিন গবেষেণা চালানোর পর এমন দাবি করেছেন দেশটির ভূ-বিজ্ঞানীরা।

শুক্রবার জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচার হেরিটেজের উদ্যোগে গঠিত চার সদস্যের একটি দল ওই আগ্নেয়গহ্বর পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে তারা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে।

সেসব খতিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত রামগড়ের আগ্নেয়গহ্বর সৃষ্টি হয়েছে বিশাল উল্কা পতনের জেরে। খবর বর্তমানের।

ওই দলে থাকা ভূ-বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক বিনোদ আগরওয়াল বলেন, ৭৫ হাজার কোটি বছর আগে রামগড়ের ওই এলাকায় বিশাল আকারের একটি উল্কা পড়ে। যার ব্যাস ছিল প্রায় তিন কিলোমিটার। সেটি পড়ার ফলে যে টিলার সৃষ্টি হয়েছে তার উচ্চতা প্রায় ২০০ মিটারেরও বেশি। শুধু তাই নয়, উল্কা পতনে তৈরি হয়েছিল চার কিলোমিটার ব্যাসের একটি গভীর খাতও। সেটাই এখন আগ্নেয়গহ্বরের রূপ নিয়েছে।

ভারতে এই ধরনের দুইটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত আগ্নেয়গহ্বর রয়েছে। একটি লুনার লেক। সেটি মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলায় অবস্থিত। অন্যটির অবস্থান মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায়।

ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রামগড়ের ওই আগ্নেয়গহ্বরটি জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রথম নজরে আসে ১৮৬৯ সালে। ১৯৬০ সালে জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের তরফে সেটিকে ‘আগ্নেয়গহ্বর’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এবার রামগড়ের ওই আগ্নেয়গহ্বরটি ভূবিদ্যা সংক্রান্ত বিশ্ব সম্মেলনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে বলে আশাবাদী ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচার হেরিটেজের কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার শর্মা। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২০ সালে।